৭০ বছর বয়সে চিলির দল ‘লাস লোইকাস’-এর হয়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছেন ভিলদোসোলার। নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসের অধিনায়কত্বে মাঠে নামা প্রবীণ ব্যাটসম্যানটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে নজির পাতায় নাম লিখিয়েছেন। বিপক্ষ দলের বিপক্ষে ওপেনিং করে ব্যাট করেন তিনি।
এই ম্যাচে ভিলদোসোলার প্রথম বলেই ডাক খেয়ে যান। তবে স্কোরবোর্ডে শূন্য রান লেখা থাকলেও বয়স্কতম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং খেলাধুলায় অদম্য তাড়না ও নতুন প্রজন্মের প্রতি অনুপ্রেরণার নিদর্শন। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই দৃষ্টি তাঁর দিকে ছিল সবার।
ক্রিকেটের সঙ্গে ভিলদোসোলার পরিচয় হয় ২০১৯ সালে। চিলির নিউবলে অঞ্চলভিত্তিক দল লাস লোইকাস তখন একটি মা-মেয়ে ক্রিকেট ইভেন্টের আয়োজন করে। তৎকালীন অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেসের উদ্যোগে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলার খেলা দেখতে যান বয়োজ্যেষ্ঠা ভিলদোসোলার। প্রথমে বন্ধুদের জন্য রান্না করাই তাঁর কাজ ছিল, কিন্তু মাঠের বল-ব্যাটের সংস্পর্শ তাঁকে সম্পূর্ণ অন্য কোনো দিকে টেনে নেয়।
সেই প্রথম ক্রিকেট ব্যাট ধরে ভিলদোসোলার ছেড়ে দেননি পথ। নাতনি ক্যামিলা ও মা লরেতোর নিয়মিত অনুপ্রেরণায় তিনি ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৬ সালের এপ্রিলে কোস্টারিকার বিপক্ষে খেলার সময়ও মাঠে ছিলেন ক্যামিলা। নানিকে দেখে দলের অন্য খেলোয়াড়রাও যে কতটা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তা তাঁর অভিষেকের ছবিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভিলদোসোলার বলেন, যৌবনে বাস্কেটবল, ভলিবল বা ফুটবল খেলার প্রচলন ছিল, তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা পেশাদার খেলাধুলার কথা কখনও ভাবেননি। তবে ল্যাটিন আমেরিকার সংস্কৃতি হিসেবে সবসময় শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পছন্দ ছিল তাঁর। সেই তাড়নাই তাঁকে মাঠে নিয়েছে—জেতার চেয়ে অংশগ্রহণই ছিল মূল উদ্দেশ্য। আবার বয়সের কারণে সহ-দলীয়দের তুলনায় তাঁর জয়েন্টগুলোর কারণে বোলিং করা সম্ভব হয়নি, যে কারণে ব্যাটিংয়ের ওপরই নজর রেখেছিলেন তিনি। নিজের নাতনির অধিনায়কত্বে মাঠে খেলার অভিজ্ঞতাকে তিনি বড় গর্ব ও সম্মানের কথা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।





