টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে পরিণত অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত অর্চিতা স্পর্শিয়া। তিনি জানিয়েছেন, কাল্পনিকের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের নানা চরিত্রের সঙ্গে কাজ করতে চান, যাতে বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে পর্দায় নিজের নতুন দিকগুলোকে আবিষ্কার করতে পারেন। বিভিন্ন গল্প ও চরিত্রের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় অভিনয় জগতে টিকে থাকাই তার বড় সাফল্য বলে জানালেন তিনি।
সাম্প্রতিক নাটক ‘লালপরী’তে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করে অর্চিতা স্পর্শিয়া নতুন একটি রূপে দর্শকের নজরে এসেছেন। নাটকটি নির্মাতা জোবায়ের আবীর পিয়ালের আগ্রহে বেছে নেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান সমাজের বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে যে চরিত্রগুলো গল্পে রূপান্তরিত হয়, সেগুলোর প্রতি তাঁর আলাদা ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। সেই চরিত্রগুলোকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জকে তিনি সবসময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন।
নির্মাতাদের আগ্রহ আর দীর্ঘ পথ
অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল বিজ্ঞাপনের কাজ থেকে। সেই সূত্র ধরে শুরু হওয়া কাজগুলো ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল বলে বলেন স্পর্শিয়া। তাঁর আলাদা পর্দোপস্থিতি ও সাবলীল অভিনয় দ্রুত নির্মাতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে নাটক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমা—বিভিন্ন মাধ্যমে সুযোগ পেয়ে তিনি কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করে তিনি ভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্রে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। ‘ঘূর্ণিপাক’, ‘দূরত্ব’, ‘অসহায়’, ‘লাল মাংসের ঝোল’ ও ‘অসহায়’র মতো কাজের মধ্যে তাঁর বিভিন্ন প্রতিভা ফুটে ওঠেছে। সাধারণ দর্শক চলতি-চলিতির বেগ না ধরে টিকে থাকা কঠিন হলেও স্পর্শিয়া বলেছেন, শিল্পজগতে দীর্ঘদিন উপস্থিত থাকাই তাঁর কাছে বড় অর্জন।
জনপ্রিয়তার দৌড়ে না দৌড়ে নিজের পছন্শে কাজ করার চর্চা তাঁকে বাংলা নাটক ও অন্যান্য অভিনয়মাধ্যমে আলাদা পরিচয় দিয়েছে। সেই ধারায় সামনে এগিয়ে গিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের গল্প ও চরিত্র তুলে ধরতে চান তিনি। অর্চিতা স্পর্শিয়ার দৃষ্টি স্পষ্ট— নিজের মতো করে কাজ করে পরিণত শিল্পী হওয়ার পথে চলতে চান তিনি।




