জনপ্রিয় বাস্তবতা-ভিত্তিক বিনোদন জগৎ ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে পুরুষত্ব ও গোঁফকে কেন্দ্র করে আসিফ খানের বিতর্কিত বক্তব্য তীব্র আলোচনার মধ্যে এসেছে। ‘পঞ্চায়েত’ সিরিজখ্যাত অভিনেতা আসিফ বলেছেন, রাজস্থান থেকে আসা তাঁদের কাছে গোঁফ পুরুষত্বের একটি পরিচয়। তাঁর এই মন্তব্য প্রতিযোগীদের মধ্যে সরাসরি প্রতিবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
আসিফের বক্তব্যের পরেই প্রতিযোগিতার অন্য সদস্যরা তাঁর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা জানান, সমাজে একাধিক মানুষের গোঁফ না থাকলেও তাঁদের পুরুষ হিসেবে পরিচয় টিকে থাকে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অভিনেতা সালমান খানেরও সব সময় গোঁফ না থাকা এবং তার কারণে পুরুষত্বের পরিচয় বদলে যাওয়া উচিত নয়—এমন দাবিও করা হয়েছে।
এক প্রতিযোগী আসিফের যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, প্রকৃত পুরুষ কখনো উগ্র বা হিংসুটে হয় না; বরং পরিবারকে একসঙ্গে রাখার দায়িত্ব পালন করে। অন্যদিকে, প্রতিযোগী গুল্লু অভিযোগ করেন যে ইয়াং ডিএসএ ইন্ডিয়া নিজের দলের সদস্যদের গোঁফের বিন্যাস নিজের পছন্দ অনুযায়ী ঠিক করে দেন। এই অভিযোগের পরেই আসিফ রাজস্থানি সংস্কৃতির প্রসঙ্গ আরও স্পষ্ট করেন।
আসিফ দাবি করেন, “আমরা রাজস্থান থেকে এসেছি। এই গোঁফ আমাদের পরিচয়। যাদের গোঁফ নেই, তাঁদের আমরা পুরুষ মানুষ বলে মনেই করি না। তাই দাড়ি-গোঁফ এমনই রাখা হয়।” এই বক্তব্যে বয়স, উপস্থাপিতা বা ব্যক্তিগত পছন্দের বদলে লিঙ্গভিত্তিক একটি মানদণ্ড তৈরি করা হচ্ছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। তাঁরা আসিফের একটি ব্যক্তিগত রীতি বা সংস্কৃতিকে সব পুরুষের সাধারণ পরিচয় হিসেবে উপস্থাপনে আপত্তি জানান।
একাংশ নেটিজেন মনে করছেন, আসিফের বক্তব্যের মধ্যে সরাসরি নাম না উল্লেখ করা হলেও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সালমান খানকে পরোক্ষভাবে অপমান করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যটি নিয়ে দুই পক্ষে যুক্তি চলছে—একদিকে আসিফের রাজস্থানি পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে গোঁফকে পুরুষত্বের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে দেখা সমালোচিত হচ্ছে। ফলে আগামী পর্বগুলোতে আরও বিতর্ক হতে পারে বলে ধারণা করছেন দর্শকরা।





