স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশে গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনোদিন দেশের মাটিতে রাজনূ করতে দেওয়া হবে না। ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পুনরুদ্ধার ঘটবে না—এ দাবি করেন তিনি।
শনিবার বিকালে ঢাকার ধোলাইখাল সংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ বিএনপির অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন।
হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তাঁর নিয়োজিত সাবেক নেতাদের জুম মিটিং এবং ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। বাংলাদেশ সরকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে অফিসিয়ালি ফেরত চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার চায় শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার সরকারকে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়ায় আসামিরা চাইলে আপিলের সুযোগ পেলেও সাজা ভোগ বা বিচারের সম্মুখীন হওয়া থেকে কারো সুরক্ষা নেই বলে জানান মন্ত্রী।
ব্যক্তিনির্ভর স্লোগানের বিরুদ্ধে কথা
ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান পরিহার এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো একটি অঞ্চলকে লক্ষ্য করে অন্য অঞ্চলের নেতাকে উপসম্বোধন করা বা কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান তোলা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। তাঁর মতে, এখন থেকে স্লোগানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং শহীদদের রক্তকে মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি উচিত।
বর্তমান সরকারের বিগত সাত মাসের কাজের সাফল্য ও পরিকল্পনার দিকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষা, সংবিধান সংশোধন এবং গণতন্ত্র সুসংহত করার কাজে সরকার ব্যস্ত থাকলেও বিরোধীরা সাত মাসের মধ্যে সরকার পতনের উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী কর্মসূচির হুংকার দিচ্ছে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেওয়া সত্ত্বেও বিরোধীদের রাস্তায় নামার কৌশলকে তিনি ভিত্তিহীন বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, লং মার্চ ও এক দফার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষকে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলমান রাখা হলেও তারা এই কৌশল বুঝতে পেরেছেন।






-6ab8bdd74dab2.jpg)