শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প কতটা কার্যকর হবে?

সরকার সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগের সুবিধা যুক্ত করতে চাইছে। বিনিয়োগ মডেল, আর্থিক স্থায়িত্ব ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ এএমসর্বশেষ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ এএম
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প কতটা কার্যকর হবে?

বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এটি পুরো নতুন ও পঞ্চম স্কিম নয়; বরং বিদ্যমান সমতা, সুরক্ষা, প্রবাস ও প্রগতি—এই চারটি স্কিমেরই ইসলামিক ভার্সন হিসেবে কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা চাইলে প্রচলিত মুনাফাভিত্তিক অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি—দুইটির মধ্যে বেছে নিতে পারবেন।

চারটি স্কিমেই থাকবে দুই বিকল্প

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য ও প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শেখ কামরুল হাসান বলেন, প্রতিটি স্কিমে বর্তমানের মতোই মুনাফা ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি প্রবাস স্কিমে ‘প্রবাস শরিয়াহ’, প্রগতি স্কিমে ‘প্রগতি শরিয়াহ’, সুরক্ষা স্কিমে ‘সুরক্ষা শরিয়াহ’ এবং সমতা স্কিমে ‘সমতা শরিয়াহ’ নামে আলাদা অংশ যুক্ত করা হবে। সুদ গ্রহণে আগ্রহ নেই এমন গ্রাহকরা এই বিকল্প বেছে নিতে পারবেন।

এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সর্বজনীন পেনশনে গ্রাহকের সংখ্যা ও আমানত বৃদ্ধির লক্ষ্য। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কর্মসূচি শুরুর পর চারটি স্কিমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজজন নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সমতা স্কিমে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করলেও সুরক্ষা, প্রবাস ও প্রগতি স্কিমে নিবন্ধন অপেক্ষাকৃত কম। কর্মসূচিতে জমা হওয়া ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। মুনাফার হার বৃদ্ধি ও পেনশনারের বয়সসীমা বাড়ানোর মতো উদ্যোগের পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক বিকল্পকে নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে।

আস্থা নির্ভর করবে বিনিয়োগ মডেল ও নিয়ন্ত্রণের ওপর

শরিয়াহভিত্তিক ফান্ডের বিনিয়োগ মডেল, পোর্টফোলো ব্যবস্থাপনা, আর্থিক স্থায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা গ্রাহকদের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। শরিয়াহ নীতির কঠোরতা, বিনিয়োগের ঝুঁকি ও পরামর্শকদের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি এবং স্থানীয় পরামর্শকরা কাঠামো, পরিচালনা, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও কারিগরি বিষয়ে কাজ করছেন। আলাদা শরিয়াহ বোর্ড গঠনের প্রয়োজন হবে কি না এবং সুকুক বন্ডসহ কোন কোন যন্ত্রাংশে বিনিয়োগ করা যাবে, তা নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড ও সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত শরিয়াহ অথরিটির কাছ থেকে প্রাথমিক পরামর্শ নেওয়া হবে। পরিচালনা পর্ষদের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটি এখন আইনি ভিত্তি তৈরির পর্যায়ে রয়েছে; খসড়া আইন প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কার্যকর মডেল, স্বচ্ছ বিনিয়োগ কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেই শরিয়াহভিত্তিক বিকল্প সর্বজনীন পেনশনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ