প্রাচুর্য, বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিনিময়ে পরাধীনতা নাকি অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যেও স্বাধীন জীবন—এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্রে রেখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় মঞ্চায়িত হয়েছে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’। শুক্রবার সন্ধ্যায় মূল হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে দর্শকরা দেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই পাখি’ কবিতা ও ‘রক্তকরবী’ নাটকের নন্দিনী চরিত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি এক নাটক।
প্রযোজনাটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যকার ও নির্দেশক ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম। নাটকে সোনার খাঁচায় আটকে থাকা নিরাপদ কিন্তু পরাধীন জীবনের মুখোমুখি রাখা হয়েছে ঝুঁকি ও কষ্টের মধ্যে স্বাধীন বনের পাখির জীবনকে। খাঁচার পাখি ও বনের পাখির সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার দুই সত্তার সংগ্রামকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
যখন দুই পাখি নিজস্ব শক্তিতে মুক্তির পথ খুঁজে পায় না, তখন নাটকে আবির্ভূত হয় ‘রক্তকরবী’-র নন্দিনী। যক্ষপুরীর মকররাজের শোষণ ও ভয়ভীতিতে দিনের পর দিন খনিতে শ্রম দিতে যন্ত্রে পরিণত হওয়া কিশোর ও ফাগুলালের মতো অসংখ্য মানুষের মানবিক অস্তিত্ব ও মুক্তির পথ খুঁজে দেখানো হয়েছে তার চরিত্রের মাধ্যমে। সেই ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বকে ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শোষণ-শাসণের আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে সমকালীন শিল্পরূপ দিয়েছেন লাকী ইনাম।
নাটক সম্পর্কে লাকী ইনাম বলেন, ‘দুই পাখি’ ও ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথের একই বক্তব্যের দুই রূপ। তাঁর মতে, সব মানুষের স্বাধীনতাই ওই একই বক্তব্যের কেন্দ্রে থাকে। প্রকৃত স্বাধীনতা শুধু নিজের চারপাশের প্রাচীর বা খাঁচা ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অন্যকে খাঁচায় আটকে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং অন্যকেও বাঁচার সুযোগ তৈরি করা। তিনি জানান, এই ভাবনা থেকেই দুই পাখির মুক্তির সন্ধান ও নন্দিনীর দেওয়া উত্তরকে একত্রিত করে তৈরি হয়েছে নতুন প্রযোজনাটি।
গত ৪ সেপ্টেম্বর জীবনের ৭৫ বছরে পদার্পণ করেন লাকী ইনাম। জন্মদিন উদযাপনের বদলে নতুন নাটক সৃষ্টি ও মঞ্চায়নের মাধ্যমে শিল্পজীবনের এই মাইলফলক উদযাপন বেছে নিয়েছেন তিনি। নাটকের পাণ্ডুলিপি লেখায় হৃদি হক তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছেন বলে জানান নির্দেশক। অভিনয়, মঞ্চসজ্জা, আবহসংগীত, পোশাক ও দ্রব্যসম্ভারে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের কার্যকরীদের সহযোগিতা রয়েছে; আলোকবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ঠান্ডু রায়হান।
-6ab6c786d4aaf.jpg)


