প্রাচুর্য, বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিনিময়ে পরাধীনতা, নাকি অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যেও স্বাধীন জীবন—এই দ্বন্দ্বকে সামনে রাখে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে প্রযোজনাটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
খাঁচার পাখি ও বনের পাখির দ্বন্দ্ব
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই পাখি’ কবিতা এবং ‘রক্তকরবী’ নাটকের নন্দিনী চরিত্রকে আশ্রয় করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। সোনার খাঁচায় নিরাপদ অথচ পরাধীন জীবনের সঙ্গে ঝুঁকি ও কষ্টের মধ্যে স্বাধীন বনের পাখির জীবনের মুখোমুখি করানো হয়েছে প্রযোজনায়। খাঁচার পাখি ও বনের পাখির সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা আর পরাধীনতার দুই সত্তার সংঘর্ষ তুলে ধরা হয়েছে।
নাটকের ভাবনায় দুই পাখি নিজস্ব শক্তিতে মুক্তির পথ খুঁজে পেলে নন্দিনীর আবির্ভাব ঘটে। যক্ষপুরীর মকররাজের শোষণ ও ভয়ভীতির মধ্যে কিশোর, ফাগুলালের মতো অসংখ্য মানুষ যখন খনিতে শ্রম দিতে দিতে যন্ত্রে পরিণত হয়, তখন নন্দিনী তাদের মানবিক অস্তিত্ব ও মুক্তির পথের সন্ধান দেন। এই ভাবনাকে ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শোষণ-শাসন ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের সমকালীয় বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে নতুন শিল্পরূপ দিয়েছেন নাট্যকার ও নির্দেশক ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম।
জীবনের ৭৫ বছরে নতুন সৃষ্টি
‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২৮তম প্রযোজনা। এটি পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন লাকী ইনাম। গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি ৭৫ বছরে পদার্পণ করেন। জন্মদিন উদযাপনের বদলে নতুন নাটক সৃষ্টি ও মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নিজের শিল্পজীবন উদযাপন করেন তিনি। শৈশব থেকে আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও অভিনয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর শিল্পচর্চার আশ্রয়।
লাকী ইনাম বলেন, ‘দুই পাখি’ ও ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথের একই বক্তব্যের দুই ধরনের শিল্পরূপ। সেই বক্তব্য হলো সর্বপ্রাণী ও সব মানুষের স্বাধীনতা। তাঁর মতে, প্রকৃত স্বাধীনতা শুধু আবদ্ধ প্রাচীর বা খাঁচা ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অন্যকে খাঁচায় আটকে রাখা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাঁচা এবং অন্যকেও বাঁচার সুযোগ তৈরি করাই আসল স্বাধীনতা। নাটকটির পাণ্ডুলিপি রচনায় হৃদি হক ভাবনা দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্দেশক।
প্রযোজনার অভিনয়, মঞ্চসজ্জা, আবহসংগীত, পোশাক ও দ্রব্যসম্ভার নির্মাণে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাট্যকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন। মঞ্চআলোর পুরোধা ঠান্ডু রায়হান প্রযোজনাটিতে আলোকবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার নাটকটি দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি মুক্তি ও মানবিকতার বোধের মুখোমুখি করার কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-6ab6c786d4aaf.jpg)


