বিনোদনজগতে নারী অভিনেতদের জন্য ভালো ও অর্থবহ চরিত্রের অভাব এখনো দূর হয়নি। সিনেমায় নারীকে প্রায়ই খলনায়িকা অথবা পুরুষের সঙ্গে যুক্ত ভূমিকায় দেখানো হয়। পেশাদার অভিনেত্রী ফাতিমা সানা বলেছেন, নারী-পুরুষের চরিত্র উপস্থাপনে বিশাল ফারাক থাকায় অনেক সময় পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও কাজ করতে রাজি হতে হয়। তবি দশ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতাই তাঁকে ভারসাম্যপূর্ণ নারী চরিত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে সোচ্চার করেছে।
‘হুঙ্কার’-এর তদন্তকারী অধিকারিক
নতুন ওয়েব সিরিজ ‘হুঙ্কার’-এ একটি জটিল ও সংবেদনশীল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফাতিমা সানা। সিরিজের গল্প এমন এক কিশোরীকে ঘিরে আবর্তিত হয়, যে স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। ঘটনাটি তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকের চরিত্রে কাজ করেছেন তিনি। মোহাম্মদ জিশান আইয়ুব, রঘুবীর যাদব, অনীত পড্ডা ও রাম কাপুরসহ একাধিক অভিনেতার সঙ্গে কাজ করেছেন ‘হুঙ্কার’-এ। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নারী চরিত্রকে কেবল সহায়ক ভূমিকায় সীমাবদ্ধ না রেখে সক্রিয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অবস্থানে রাখা হয় বলে তিনি মনে করেন।অভিনেত্রী বলেন, নারীর জন্য সৃষ্ট চরিত্রের সংখ্যা কম হওয়ার পাশাপাশি সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন স্তর ও জটিলতা কম। পুরুষ অভিনেতারা যেখানে অভিনয়ের দক্ষতা ও বহুমুখী সামর্থ্য প্রকাশের সুযোগ পান, নারী অভিনেতারা সেই সুযোগ কম পান। চরিত্রগুলোর প্রকৃতি, পরিস্থিতি ও কারণে উপস্থাপনের সূক্ষ্মতার ক্ষেত্রেও পার্থক্য রয়েছে। তাঁর মতে, নারীকে সাধারণত ‘খলনায়িকা’ কিংবা ‘পেত্নি’ হিসেবে দেখানোর প্রবণতা থেকে বিনোদনজগত এখনো বের হয়নি। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দ্বিধাগ্রস্ত, জটিল ও বিষয়বস্তুতে সমৃদ্ধ নারী চরিত্রের সংখ্যা বাড়বে।
সুযোগের সীমাবদ্ধতায় করতে হয় আপস
ওয়েব সিরিজে বর্তমানে নিয়মিত কাজ পাওয়ার কথা বললে ফাতিমা সানা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার কথা বলেন। তাঁর মতে, অভিনেতদের হাতে বেছে নেওয়ার মতো ভালো প্রস্তাব সীমিত থাকায় অনেক সময় আপস করতে হয়। কোনো কাজ বা ছবি সফল হলে নতুন সুযোগের সংখ্যা বাড়তে পারে, আবার ব্যর্থতার ক্ষেত্রে সুযোগ কমে আসতে পারে। তখন হাতে থাকা কয়েকটি বিকল্পের মধ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হওয়াটি বেছে নিতে হয়। তবে তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেন যে, কখনো কখনো স্বভাব বা পছন্দের পরিচয় সত্ত্বেও আর্থিক ও পেশাদার বাস্তবতার চাপে কোনো কাজে রাজি হতে হয়।এই প্রসঙ্গে তাঁর আরও বেশি আগ্রহের কথা হলো শিল্পের একটি সমান্তরাল বাস্তবতা—নারী অভিনেত্রীর চরিত্র কেবল কত বড় পর্দায় অভিনয় করেছেন তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, কীভাবে এবং কত সূক্ষ্মভাবে চিত্রায়ণ করা হচ্ছে, সেখানেও নারীর ওপর বাড়তি নজর রয়েছে। পেশে দশ বছর ধরে নানা ভূমিকায় কাজ করলেও তিনি আশা করেন, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে। নারীর স্বতন্ত্র পরিচয়, সীমিত সামর্থ্য এবং জটিলতাসহ বহুমুখী চরিত্র নিয়মিত গল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত—এটিই তাঁর মূল প্রত্যাশা।




-6ab6fc3012098.jpg)
