হিন্দি সিনেমায় নারীর জন্য ভালো ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের অভাব এখনো দূর হয়নি বলে মনে করেন বলিউড অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ। তাঁর মতে, পুরুষ অভিনেতারা যেমন বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজেদের দক্ষতা প্রকাশের সুযোগ পান, নারী অভিনেত্রীরা তেমন বিস্তৃত পরিসরে সেই সুযোগ পান না। কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া খলনায়িকা ও পেত্নির পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নারী চরিত্রের চর্চা এখনো বেশি।
গত এক দশকে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফাতিমা। তাঁর মধ্যে রয়েছে কুস্তিগির গীতা ফোগতের ভূমিকা এবং ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্র। তবে নারী-পুরুষ চরিত্রের উপস্থাপনায় পার্থক্য শুধু সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়; চরিত্রগুলিকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয়, সেখানেও ফারাক রয়েছে বলে তিনি জানান।
‘হুঙ্কার’-এর নতুন ভূমিকা
নতুন ওয়েব সিরিজ ‘হুঙ্কার’-এ একজন পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে ফাতিমা সানাকে। সিরিজের গল্পে এক কিশোরী স্বঘোষিত ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে একজন অধিকারিক। এই ভূমিকাকে তিনি সুযোগ হিসেবে উপলব্ধি করলেও নারীর জন্য ভালো চরিত্রের খুব কম সুযোগ আসা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, একটি অসাধারণ নারী চরিত্র একই সঙ্গে দ্বিধাগ্রস্ত, শক্তিশালী ও জটিল হতে পারে, কিন্তু সিনেমায় নারীকে প্রায়ই ধূসর চরিত্রে দেখিয়ে তাকে খলনায়িকা অথবা পেত্নি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সিনেমা যেহেতু সমাজের প্রতিফলন, তাই এই ধারণার পরিবর্তন না হলে নারীর চরিত্রকে আরও বাস্তব ও পরিপক্বভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে না।
সুযোগের সীমাবদ্ধতায় আপস
ভালো কাজের সীমিত সুযোগের কারণে অনেক অভিনেতা নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারেন না বলে ফাতিমা সানা মনে করেন। পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনো কাজে রাজি হতে হলে অনেক সময় আপস করতে হয়। তাঁর ব্যাখ্যা, হাতে একটি ভালো সুযোগ এলে সেটিকেই নেওয়া হয়, কারণ একটি কাজ বা ছবি সফল হলে নতুন সুযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়; ব্যর্থতায় পরের সুযোগ কমে যেতে পারে।





