বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একটি সুনির্দিষ্ট স্কিম তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমানতের মূল পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা হলে আমানতকারী তা পূর্ণ মূল্যে ফেরত পাবেন। এর বেশি অর্থ জমা থাকলে নির্ধারিত হারে কিছু অংশ কেটে বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা। ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
আমানতের পরিমাণ অনুযায়ী ফেরতের হিসাব
১ কোটি থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আমানত থাকলে প্রথম ১ কোটি টাকার জন্য ৮০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৫০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। যেমন, ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আমানত থাকলে আমানতকারী ৮০ লাখ টাকাসহ অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকার অর্ধেক—অর্থাৎ ১০ লাখ টাকা—মোট ৯০ লাখ টাকা পাবেন।
দেড় কোটি থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে প্রথম দেড় কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং বাকি অংশের ৪০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে। ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা জমা থাকলে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যাবে—অর্থাৎ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত ৩০ লাখ টাকার ৪০ শতাংশ, ১২ লাখ টাকা।
২ কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত থাকলে প্রথম ২ কোটি টাকার জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত অংশের ৩০ শতাংশ ফেরত পাওয়া যাবে। তাই ৩ কোটি টাকা আমানত থাকলে আমানতকারী ১ কোটি ২৫ লাখ টাকাসহ অতিরিক্ত ১ কোটি টাকার ৩০ শতাংশ, ৩০ লাখ টাকা—মোট ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ফেরত পাবেন।
যে চার প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরত দেওয়া হবে
আয়োজনের আওতায় থাকা চারটি প্রতিষ্ঠান হলো আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। গত ৯ আগস্ট এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ শূন্য করা হয়। পরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা পাঠানো হয়।
চারটি প্রতিষ্ঠানে মোট ১২ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা, আভিভা ফাইন্যান্সে ৫ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা, এফএএস ফাইন্যান্সে ১ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৪৪৯ কোটি টাকা জমা রয়েছে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের হার ৯৩ শতাংশ থেকে প্রায় ১০০ শতাংশে উঠে যাওয়ায় বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।





