জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শনিবার দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্লাস ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সবার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়; তবে কোনো শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হতে বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারবে না।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পড়াশোনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে কলেজের পরীক্ষার ফলাফলকে সেরা সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। সেই ফলাফল ভালোভাবে দেওয়া সম্ভব হলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি জানান, দুনিয়ায় সবাইকে একই পেশায় নিয়োজিত করার দরকার নেই। বিদেশে যাওয়া বা পছন্দমতো পেশায় যাওয়া সম্ভব, তবে তা যেন সততা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্বের বিরুদ্ধে না হয়।
নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতি তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোনো বিদ্যালয়ে ফিরে এসে তিনি দেখেছেন, তারুণ্যের দায়িত্বে যে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রম দিয়েছেন, তারা এখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে গেছেন। শিক্ষকদের প্রতি ঋণের কথা তুলে তিনি বলেন, তাঁদের পরিশ্রমের ঋণ শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, পরবর্তী প্রজন্মকেও মনে রাখা উচিত।
অনুষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দেবিদ্বার থেকে কয়েকজন কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রেয়াজ উদ্দিনের ছাত্র, অক্সফোর্ডের ছাত্র এবং কুমিল্লা জেলা স্কুলের ছাত্র রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি স্থানীয় পুলিশ সুপারের ফোনে শহরের একজন ছেলে গ্রেফতার হওয়ার খবর পাওয়াকে লজ্জার বিষয় বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার কোনো তরুণ ভালো কাজ করলে সেটি পরিবার ও এলাকার জন্য গর্বের বিষয় হওয়া উচিত।
হাসনাত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ভালো কাজের সঙ্গে তাঁদের তাঁর কাছে পৌঁছাতে হবে, আর অপরাধে জড়ালে পরিচয়ের তাইগ্য না হলেও শাস্তির কঠোরতা কম হবে না। তাঁর মতে, ভুল পথে যাওয়া শিক্ষার্থীদের অন্য উপজেলার শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি শাস্তি হওয়া উচিত, কারণ তাদের সামনে এলাকার ও প্রতিষ্ঠানের সামান্য হিসাব রক্ষার দায়িত্বও থাকে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাত তুলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শপথ করান তিনি।
-6ab7db813afb0.jpg)



