নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘটনাটির প্রেক্ষিতে দুই দল পরস্পরের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ তুলেছে।
উপজেলা পরিষদের গেটে সংঘর্ষ
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের সামনে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় যোগ দিতে হান্নান মাসউদ উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রবেশমুখে পৌঁছালে সেখানে অপেক্ষমাণ ছাত্র ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বাক্যালাপ শুরু হয়। একপর্যায়ে কথোপকথন উত্তেজনায় উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
এনসিপির হাতিয়া উপজেলা আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, বিনা উসকানিতে ছাত্রদল ও যুবদলের ক্যাডাররা এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সমাবেশে হান্নান মাসউদ বিএনপিকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তাঁদের দাবি, ধারাবাহিক উসকানিমূলক আচরণের কারণেই সাধারণ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন; এতে দলীয় কোনো পূর্ব নির্দেশনা বা হামলার পরিকল্পনা ছিল না।
হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাওয়ার পথে বিএনপির লোকজন তাঁকে পথরোধ করে হট্টগোল ও প্রতিবাদ করে। তিনি দাবি করেছেন, পরে বিএনপির লোকেরা মারমুখী আচরণ করে হাতাহাতিতে লিপ্ত হলে তাঁর ঘাড়ে ছোঁড়া একটি ঘুসি লাগে। তবে এই অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মধ্যে যাচাই করা হয়নি বলে জানা যায়নি।
হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন জানান, সংসদ সদস্য সভাস্থলে প্রবেশের সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবেশ শান্ত করে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, উপজেলা পরিষদের গেটে দুই পক্ষের উপস্থিতির কারণে ধাক্কাধাক্কি ও উচ্চবাচ্য হয়। পরে প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সংসদ সদস্যকে নিরাপদে সভায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
-6ab63c72d2471.jpg)

-6ab66959b519a.jpg)
-6ab6a466c9142.jpg)