প্রিন্ট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম | প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
বাংলাদেশে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালু করতে চাইছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। বিদ্যমান চারটি স্কিম থাকা সত্তেও এই নতুন পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে সরকারি মতামত পার্থক্য দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি চালু করলে দেশের অধিক সংখ্যক মানুষ দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আসতে পারবেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালন পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে গত ১৭শে সেপ্টেম্বর এই প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এর আইনগত ভিত্তি তৈরিতে আইনের খসড়া প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্তৎপক্ষ স্পষ্ট করেছে, শরিয়াহভিত্তিক স্কিম কোনো আলাদা পঞ্চম স্কিম নয়, বরং বিদ্যমান চারটি স্কিমেরই ইসলামিক ভার্সন।
পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, প্রতিটি স্কিমে (সমতা, সুরক্ষা, প্রবাদ ও প্রগতি) এখন থেকে গ্রাহকদের জন্য দুটি অপশন থাকবে — প্রচলিত মুনাফা পদ্ধতি অথবা শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতি। যদি কোনো গ্রাহক সুদ গ্রহণে আগ্রহী না হন, তিনি শরিয়াহ পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শদাতাদের সহযোগিতায় শরিয়াহভিত্তিক পদ্ধতির কাঠামো, পরিচালন পদ্ধতি, বিনিয়োগ ব্যবস্থা ও কারিগরি বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর আর্থিক স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি নিয়েও গভীর বিশ্লেষণ চালু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ বোর্ড এবং সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শরিয়াহ অথরিটিগুলোর পরামর্শ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কামরুল হাসান। এখন পর্যন্ত সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ৮০ হাজার, যাদের জমা হয়েছে প্রায় ৩২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে। তবে সমতা স্কিমে দুই লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করলেও অন্য তিনটি স্কিমে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা আপাতত কম।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শরিয়াহভিত্তিক ফান্ড বিনিয়োগের মডেল ও গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা সংক্রেত নিয়ে এখনও অপরিষ্কার বিষয় রয়েছে। তাদের মতে, গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য এই পদ্ধতির স্বচ্ছতা, আইনগত সুরক্ষা এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে।




-69b171500858f-6ab4033709301.webp)
