ঢাকার গুলশানে ১৯৫০ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন জাফর ইকবাল। পারিবারিক আবহে শৈশব থেকেই সংগীতে অনুরাগী ছিলেন তিনি। সংগীত জগতের কিংবদন্তী শাহনাজ রহমতুল্লাহ তার বোন এবং আনোয়ার পারভেজ তার ভাই। এমনকি সত্তর ও আশির দশকে দেশের প্রথম ফ্যাশন ও রুচিশীল নায়ক ছিলেন জাফর ইকবাল, যার কারণে সেসব সময় তরুণদের কাছে স্টাইল আইকনিক ছিলেন তিনি।
১৯৬৬ সালে ব্যান্ড দল গড়ে গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন জাফর ইকবাল। 'পিচঢালা পথ' সিনেমায় কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি আশির দশকে 'হয় যদি বদনাম হয় আরও', 'সুখে থাকো ও আমার নন্দিনী' এবং রুপালি পর্দায় 'তুমি আমার জীবন'-এর মতো অসংখ্য জনপ্রিয় গান দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সংগীতে অসামান্য অবদান এবং অভিনয়ে সাবলীল উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি ঢালিউডে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেন।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এ ক্ষণজন্মা তারকা চলে যান না ফেরার দেশে। জাফর ইকবাল গানের পাশাপাশি অভিনয়ে জড়িয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের আগে 'আপন পর' সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তার পা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৫ সালে 'মাস্তান' সিনেমায় তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রায় ১৫০টি সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল। তার অভিনীত 'নয়নের আলো', 'ভাই বন্ধু', 'চোরের বউ', 'অবদান', 'সাধারণ মেয়ে', 'একই অংশে এত রূপ', 'ফকির মজনু শাহ', 'দিনের পর দিন', 'মেঘবিজলী বাদল', 'সাত রাজার ধন', 'আশীর্বাদ', 'অপমান' ও 'প্রেমিক'সহ বহু সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে।
বিশেষ করে অভিনয় জগতে এসে জাফর ইকবাল অভিনয়ী ববিতার প্রেমে পড়েন। সেই সঙ্গে অভিনয়ে তার সঙ্গে অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকমহলে দারুণ সাড়া ফেলে। এমনকি অভিনয়ীর সঙ্গে নাকি তার গভীর সম্পর্কের জন্ম নেয়, যদিও পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।



