ঝিনাইদহের নতুন হাটখোলা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের পুরোনো প্রেম আবার জেগে উঠেছে। শুক্রবার জামায়াত করার পর তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষও দুই দলের মধ্যে পুরোনো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হয়েছে বলে মনে করছেন।
এ সময় রাশেদ খান আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত হয়েছে এবং গুম-খুনের শিকার হয়েছে বলে দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন করেন, এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে চায়। এর উত্তরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতের চিঠি ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাস ভুলে নেই।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমালোচনা করে রাশেদ খানের বক্তব্য
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাশেদ খান বলেন, বিএনপি আওয়ামী লীগের প্রশ্নে মিয়া গোলাম পরওয়ার নীরব ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস না করে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নেতৃত্বাধীন পার্টির সভা-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে না এবং অযৌক্তিক লংমার্চ করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ভেঙে বাংলাদেশপন্থি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ হয়নি। উল্টো নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বাচন ব্যাহতের চেষ্টা করা হয়েছে। নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়ে থাকলে তা জামায়াত ও এনসিপির পক্ষে হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ জানান।
আসন বৃদ্ধি ও প্রার্থী নিয়ে জনগণের প্রশ্ন
রাশেদ খান আসন বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, যে দল অতীতে সর্বোচ্চ ১৮টি আসন পেয়েছিল, সেই দল বর্তমান নির্বাচনে ৭৭টি আসন কীভাবে পেল—এ নিয়ে জনমানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া জামায়াতের আমির এবং নাহিদ ইসলাম জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে গিয়েছেন কি না, তা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সন্দেহকে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি সম্ভাব্য কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করে বলছেন, যার উদ্দেশ্য জামায়াত ও এনসিপিকে বৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে তৈরি করা। কথোপকথনের সময় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদসহ স্থানীয় নেতারা রাশেদ খানের পাশে উপস্থিত ছিলেন।

-6ab6a466c9142.jpg)


-6ab66959b519a.jpg)