আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের মহানায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান আইনি মামলায় এখন নতুন মোড় এসেছে। সান ইসিদ্রোর আদালতে মামলার শেষ সাক্ষী হিসেবে বক্তব্য দেওয়া ফরেনসিক চিকিৎসক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ পাবলো ফেরারি বলেছেন যে, ম্যারাডোনার মৃত্যু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হতে পারে— আর এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তিনি ময়নাতদন্তের সময় করোনাভাইরাস পরীক্ষা না করাকে গুরুতর পদ্ধতিগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ম্যারাডোনা ২০২ৎ সালের ২৫ নভেম্বর আর্জেন্টিনার টিগ্রেতে নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তার বয়স ছিল ৬০ বছর। মৃত্যুর আগে মাত্র দুই সপ্তাহ পূর্বে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার জন্য অস্ত্রোপচার করিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে তিনি ব্যথায় ভুগচ্ছিলেন বলে পূর্বে অন্য বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছিলেন, তবে ফেরারি এই সময়কালকে 'কয়েক মিনিটের বেশি' হিসেবে উড়িয়ে দেন।
ফেরারির বক্তব্যে বলা হয়েছে যে, করোনাভাইরাস শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটাতে এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে। তার এই তত্ত্ব ম্যারাডোনার প্রধান চিকিৎসক লিওপোল্ডো লুকের দেওয়া যুক্তিকে শক্তিশালী করে। লুকের দাবি ছিল যে, ম্যারাডোনার ফুসফুসে তরল জমে তীব্র শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়েছিল এবং এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে।
এদিন পর্যন্ত মামলায় ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার শেষ পর্যায়ে ফেরারি ছিলেন শেষ সাক্ষী। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হয়, যখন আসামিরা বিচারকদের সামনে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন। এরপর ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হবে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক এবং চলতি মাসের শেষ নাগাদ মামলার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে মামলায় আরও ছয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে 'ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করে সাধারণ হত্যাকাণ্ড'-এর অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আগুস্টিনা কোসাচভ, ন্যান্সি ফরলিনি, কার্লোস দিয়াজ, মারিয়ানো পেরোনি, রিকার্দো আলমিরন ও পেদ্রো দি স্পাগনা। এই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি শাস্তি প্রয়োগ হতে পারে।
-6ab4d8119a0d2.jpg)
-6ab4ceda3a9d6.jpg)
-6ab4ef8ca052c.jpg)
-6ab4d8bd545f8.jpg)
-6ab4ce50b0399.jpg)
