অস্কারজয়ী ফরাসি অভিনেত্রী মারিওন কোটিলার্ড বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই তারকাদের অভিনয় দক্ষতা নিয়ে এখন তাঁর মাথাব্যথা নেই। স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ সান সেবাস্টিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর নতুন সিনেমা ‘৭এইচ৪০ সে জু-লা’-এর প্রিমিয়ার উপলক্ষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময়ে এআই অভিনয়শিল্পীদের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন ছিল, তাঁরা এখনো ‘আলুর মতো’ অভিনয় করছেন।
এআইয়ের ব্যাপক প্রসার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা, সীমাবদ্ধতা এবং ডিজিটাল অভিনেত্রীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিশ্বের প্রথম পূর্ণ এআই তারকা হিসেবে পরিচিত টিলি নরউডের সাম্প্রতিক উত্তর-বৈঠকে হঠাৎ করে চীনা ভাষায় কথা বলা এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে। টম কন্টিনোর ‘মিসঅ্যালাইনড’ নিয়ে প্রশ্নের সময় ওই ঘটনা ইন্টারনেটে ব্যাপক হইস প্রভাব ফেলেছে।
তবে কোটিলার্ড এই প্রবণতাকে নিয়ে দূরত্ব্বের ভাষায় সাড়া দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই অভিনয়শিল্পীরা এখন যেভাবে কাজ করছেন, তাতে তিনি কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। প্রশ্ন করেছেন, এআই অভিনয়শিল্পীরা কোনো দিন কি সত্যিই দর্শকদের হৃদয়ে আবেগ তৈরি করতে পারবেন? সম্ভবত ভবিষ্যতে এমন একটি দিন আসতে পারে, যখন কোনো কৃত্রিম চরিত্রের অভিনয় দেখে তিনি নিজেও অভিভূত হয়ে যেতে পারেন।
অভিনেত্রী বলেছেন, তিনি ভয় পাবেন সেদিন, যখন কোনো এআই অভিনেতার অভিনয় দেখে তাঁর চোখে পানি আসবে বা মনে গভীর আবেগ জাগবে। প্রযুক্তির দ্রুতগতি ও এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর গভীর উদ্বেগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এআই তারকাদের নিয়ে তিনি তেমন কোনো হতাশার দ্বিধায় নেই। তাঁর মতে, আজ এআই অভিনয় যদি মানুষকে প্রভাবিত করতে না পারে, তাহলে তা এখনকার দৃষ্টিকোণে কিছুটা বিশ্রামের বিষয়।
মারিওন কোটিলার্ড ২০০৮ সালে ‘লা ভি এন রোজ’ সিনেমায় এডিথ পিয়াফের চরিত্রে অবিশ্বাস্য অভিনয়ের মাধ্যমে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জয় করেছিলেন। সান সেবাস্টিয়ান উৎসবে প্রশংসার দৌড়ে থাকা নিকোল গার্সিয়ার পরিচালিত ‘অ্যালিস’ সিনেমায় তিনি এক সাবেক বিপ্লবী কর্মীর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। ছেলের সঙ্গে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবিটিতে তাঁর ভূমিকা উৎসবের শীর্ষ পুরস্কারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




