পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সবশেষ ইংল্যান্ড সফরে ভরাডুবির পর দলটির তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ফোন জব্দ হওয়া ও দীর্ঘদিন ফোন না ফেরত পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একাশে আগস্ট লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট শেষ হওয়ার পর রাত অনুমান একটির দিকে তাকে হোটেলের নিচে ডেকে পাঠানো হয়।
সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তা কর্নেল আখতার তাকে হোটেলের বাইরে ডেকে পাঠান। তখন রিজওয়ানকে নিজের মোবাইল আনতে বলা হয়। এরপর পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির এক কর্মকর্তার সঙ্গে তার দেখা হয় এবং বাজি ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেওয়া হয়।
রিজওয়ান আদালতে জানিয়েছেন, ফোন জব্দের আগে তাকে কোনো লিখিত নোটিশ, অভিযোগ, অভিযোগের ভিত্তি বা জব্দের অনুমতিপত্র দেখানো হয়নি। তাকে বলা হয়েছিল ফোনটি পরীক্ষা করে তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফেরত দেওয়া হবে। তবে কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন তিনি ফোনটি পাননি। বর্তমানে ডিভাইসটি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে থাকা এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
তদন্তকারীরা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন। রিজওয়ানের দাবি, তাকে কী অপরাধে সন্দেহ করা হচ্ছে, কোন ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কোন আইনি ক্ষমতাবলে তার ফোন নেওয়া হয়েছে—এসবের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তাকে দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে পিসিবির সাবেক আইনপ্রধান তাফাজ্জুল রিজভিও বলেছেন, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো অপরাধের প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি নেই।
আদালতও স্পষ্ট করেছে, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। নোটিশের উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হলেও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি। পিসিবি অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিশদ বিষয়ে নীরবতা রেখেছে।





