পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের সবশেষ ইংল্যান্ড সফরে ভরাডুবির মুখোমুখি হওয়ার পর তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ফোন জব্দ ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তার মোবাইল ফোনটি তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।
হোটেল থেকে ডেকে ফোন নেওয়ার অভিযোগ
আদালতে করা আবেদনে রিজওয়ান জানিয়েছেন, ৩০ আগস্ট লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট শেষ হওয়ার পর রাত প্রায় ১টার সময় পিসিবির অ্যান্টি করাপশন কর্মকর্তা কর্নেল আখতার তাকে হোটেলের নিচে ডেকে পাঠান। তাঁকে সঙ্গে নিজের মোবাইল আনতে বলা হয়। হোটেলের নিচে পাকিস্তান ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির এক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর দেখা হয় এবং পরবর্তীতে বাজি ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়।
রিজওয়ানের দাবি, ফোন নেওয়ার আগে তাঁকে কোনো লিখিত নোটিশ, অভিযোগ, অভিযোগের ভিত্তি কিংবা জবদের অনুমতিপত্র দেখানো হয়নি। তাঁকে জানানো হয়েছিল, ফোনটি পরীক্ষা করে তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ফোনটি ফেরত পাননি তিনি; বর্তমানে সেটির ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
আদালতে অভিযোগ ও আইনি দ্বিধা
আবেদনে রিজওয়ান বলেছেন, তাঁকে কী অপরাধে সন্দেহ করা হচ্ছে, কোন ঘটনার তদন্ত চলছে এবং কোন আইনি ক্ষমতাবলে তাঁর ফোন নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে তাঁকে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক বিষয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সম্পূর্ণ ক্ষমতাস্তর ও নিয়ন্ত্রণমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
আদালত অবশ্যই স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের নোটিশ দেওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বা তিনি দোষী—এমন নয়। পিসিবির সাবেক আইনপ্রধান তাফাজ্জুল রিজভিও জানিয়েছেন, বর্তমানে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ বা স্বীকারোক্তি নেই এবং নোটিশের উদ্দেশ্য তথ্য সংগ্রহ করা। তবে পিসিবির অভ্যন্তরীণ তদন্তের বিষয়ে আইনি সংস্থাটি নীরবতা বজায় রেখেছে।



