পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন তরুণ ব্যাটার মোহাম্মদ শেহজাদ। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ান টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনে পাকিস্তান টেলিভিশনের (পিটিভি) হয়ে কিংসম্যান একাডেমির বিপক্ষে মাত্র ৪৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে আসেন তিনি। এতে পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড পেয়ে যায় ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
ইসলামাবাদের ডায়মন্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরুতে পিটিভি ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। মাত্র ৩৪ রানে তিনি উইকেট হারালে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন শেহজাদ। এরপর তিনি পালটা আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন। সেঞ্চুরির পরও আগ্রাসন থামেননি তিনি; বলের ৬২টিতে আউট হওয়ার আগে ১১৪ রানে দাঁড়ান ইনিংসে।
বিধ্বংসী ইনিংসে শেহজাদ ১২টি চার ও ৮টি ছক্কা হাঁড়ান। চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ তাহারের সঙ্গে তিনি ১৪৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন, যা পিটিভির প্রতিরোধকে চাপে ফেলে ম্যাচে ফিরে আসতে সাহায্য করে। শুরুতে বিপর্যয়ে পড়া সুন্দর আক্রমণকে পুনরুদ্ধার করার দায়িত্ব নেন তরুণ ব্যাটারটি।
শুরুর দশকেই ষষ্ঠ সেঞ্চুরি
প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটে শেহজাদের ২১তম ম্যাচেই ষষ্ঠ সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়। এই ফর্মে তিনি পাকিস্তানের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণি ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা দ্রুত সেঞ্চুরির রেকর্ডও ভেঙে দেন। তাঁর ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই আক্রমণের ধারা তৈরি হওয়া এবং ইনিংসের শেষ পর্যন্ত আগ্রাসন ধরে রাখা তাঁর বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
আগে পাকিস্তানের হয়ে প্রথম শ্রেণিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ছিল সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের। ২০১৪ সালে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ৫৬ বলে শতক করেন তিনি। ওই ইনিংসের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের তালিকায় ভিভিয়ান রিচার্ডসের পাশে নাম জুড়িয়ে যায় মিসবাহের। পরে ২০১৬ সালে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ৫৪ বলে সেঞ্চুরি করে সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান।
পিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কাঠামোর বাইরে ওঠার আগেই শেহজাদ পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলেছেন। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। এখন পর্যন্ত তিনি ২২টি লিস্ট-এ ও ২৬টি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। পাকিস্তান সুপার লিগে ২০২৫ মৌসুমে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন ছয়টি ম্যাচ।



