ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রবীণ অভিনেতা মুস্তাক খানকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরবিদায় জানানো হয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরের দিন শুক্রবার মুম্বাইয়ে তাঁর শেষকৃত্যে পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন রাজপাল যাদব, সঞ্জয় মিশ্র, মনীশ ওয়াধওয়া, শাহজাদ খান, জায়েদ দরবার, সুনীল পাল ও অনীস বাজমি। তাঁরা মুস্তাক খানের ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদান এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের স্মৃতি তুলে ধরেন।
চিকিৎসা ও পরিবারের বর্ণনা
শারীরিক জটিলতার কারণে মুস্তাক খানকে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চললেও তাঁর শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে এবং তিনি হাসপাতালেই মৃত্যুর শরণারপণ করেন।
তাঁর ছেলে মোহসিন খান জানান, বাবার ক্যানসারটি প্রথম পর্যায়ে থাকলেও পরে দ্রুত জটিল রূপ ধারণ করে এবং এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে মৃত্যুর শেষ সময়ে মুস্তাক খানের মুখে হাসি ছিল। মোহসিন বাবার সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি জানাতে বলেন, মুস্তাক খান তাঁকে বলেছিলেন, “এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে আমি খুব আনন্দিত। জীবনে যে কাজ করেছি, আশা করি তা মানুষের কাছে পৌঁছেছে।”
অসমাপ্ত কাজ ও সহকর্মীদের শ্রদ্ধা
মোহসিন খান আরও জানান, তাঁর বাবার অসমাপ্ত কয়েকটি সিনেমা, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজ এখনও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। মৃত্যুর একদিন আগে হাসপাতালে রাজপাল যাদব তাঁর সঙ্গে দেখা করে আসেন। মুস্তাক খানকে দেখে তিনি খুশি হয়েছিলেন বলে জানান মোহসিন। অভিনেতা অনুপম খেরও ফোনে সহানুভূতি ও অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেছেন।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিয়ো আতা হ্যায়’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেন মুস্তাক খান। তিন দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘ওয়েলকাম’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ও ‘হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে’। ‘ওয়েলকাম’-এ তাঁর “মেরি এক টাং নাকলি হ্যায়, ম্যায় হকি কা বহুত বড়া প্লেয়ার হু” সংলাপের দৃশ্য আজও দর্শকদের মনে স্থায়ীভাবে রয়েছে।
-6ab6e811f2495.jpg)




-6ab6c786d4aaf.jpg)