মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচিত সমালোচিত হন সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। সেখানে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী কখন, কোথায় ডেকেছিলেন আর কী বলেছিলেন এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ইশরাক হোসেন।
গণমাধ্যমকে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। আমি আর তার সঙ্গে যাইনি। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। পরে প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার ক্যাবিনেটে ডেকে নিয়ে যান এবং আমার নির্ধারিত আসনে বসতে বলেন। আমি সেখানে বসে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে অংশ নিই এবং আমরা মিটিংটি সম্পন্ন করি। মিটিং শেষ হওয়ার পর আমরা আবার তার অফিসে যাই এবং সেখানে কথা বলি। আলোচনা শেষে পরবর্তী সময়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিই।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তে দলের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দল কখনোই চাইবে না যে তাদের মন্ত্রিসভার কোনো এক সদস্য পদত্যাগ করুক। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তারা যে কোনো উপায়ে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যমে আমার নেতা, প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায়।
বিরোধী দলের নেতাদের যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘তাদের মধ্যে বেশিরভাগই আমাকে সরাসরি ফোন করে বলেছেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। আপনার যে কোনো কর্মকাণ্ডে আমরা পাশে থাকব। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। এ ধরনের কথা অনেকে বলেছেন।
আগামী নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমার যেসব মূল নেতাকর্মী ২০২০ সাল থেকে আমার সঙ্গে কাজ করছেন, তারা সব সময় আমাকে ওই জায়গাটিতে দেখতে চেয়েছেন এবং এখনো চান।
প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে মাদকাসক্ত ও বিক্রেতাদের তাড়া করছেন।
পরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে তার পক্ষ দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
ইশরাক বলেন, শনিবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে ইশরাক হোসেনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণ করতে পারে, এমন আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।
কিন্তু ঘটনাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশনা দেন বলে খবর প্রকাশ হয়। তবে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে ইরশাক দাবি করেছিলেন, এ ধরনের সংবাদ সর্বৈব মিথ্যা।
তবে সোমবার সকালে ইশরাক জানান যে, তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় সেদিনই তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ছাড়লেন ইশরাক।



