বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ‘বিগ-বি’ প্রকল্পে ভারতকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারে টোকিও

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ‘বিগ-বি’ প্রকল্পে ভারতকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারে টোকিও...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ পিএমসর্বশেষ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪২ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ‘বিগ-বি’ প্রকল্পে ভারতকে যুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারে টোকিও

মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় (এফওআইপি) অঞ্চল গড়ার বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরে ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডিাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ (বিগ-বি) উদ্যোগে ভারতকে নতুন করে যুক্ত করার জোর প্রস্তাব রাখতে পারে জাপান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন তথ্য জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়। এতে এ অঞ্চলে টোকিওর কৌশলগত অবস্থানের ওপর প্রভাব পড়ে এবং জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের নেওয়া 'বিগ-বি' উদ্যোগ এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হয়।

গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার ‘বিগ-বি’ উদ্যোগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আঞ্চলিক সংযোগ উন্নত করা। এক্ষেত্রে ভারতকে এ উদ্যোগ সফল করা কঠিন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, 'ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জাপানের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আছে। ওই অঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সহজ করতে ভারত ও বাংলাদেশের আন্তঃসীমান্ত সংযোগ প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া, বঙ্গোপসাগরে ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশেরই স্বার্থ রয়েছে।'

তিনি জানান, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভারতকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে ঢাকা ও টোকিওর।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা পরিবর্তিত হওয়ায় জাপান এ অঞ্চলে তাদের কৌশলগত রূপরেখাকে নতুন করে বাস্তবায়ন করতে চায়। আসন্ন শীর্ষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে "বিগ-বি" প্রসঙ্গটি উঠে আসবে।'

ভারতের জাপানি দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাপান ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৩৮৫ বিলিয়ন ইয়েন উন্নয়ন সহায়তা দিয়েছে, যার বেশিরভাগই অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পের জন্য।

২০২৩ সালে ভারত সফরকালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা আশা প্রকাশ করে বলেন, বঙ্গোপসাগরকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে কাজ করবে জাপান।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ইয়োয়ামা কিমিনোরি বলেছিলেন, মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিষয়ে জাপানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক সংযোগ স্থাপন অপরিহার্য।

ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর শুধু দ্বিপাক্ষিক ব্যবহারের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল।

তারা জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের অধিকাংশ সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎ চেয়েও কোনো বৈঠক করতে পারেননি।

শিনইচি ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি দায়িত্বগ্রহণ করেন।

এদিকে, আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, 'সময়সূচির সঙ্গে মিললে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ দেবেন।'

এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব বা সিএসপি তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

জাপানের কূটনৈতিক কাঠামোতে ‘সিএসপি’ বলতে কৌশলগত অংশীদারত্বের চেয়ে উচ্চ ও বিস্তৃত পারস্পরিক সমঝোতা বোঝায়, যার মধ্যে প্রায় সব খাতে বহুমাত্রিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকে।

নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা নিশ্চিতে আসিয়ান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও লাওসের সঙ্গে জাপানের ‘সিএসপি’ সম্পর্ক রয়েছে।

মঙ্গলবার এক ঘোষণায় জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং পরিমার্জিত এফওআইপি বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ঘিরে শিল্প উন্নয়ন ও সংযোগ বাড়াতে ২০১৪ সালে ‘বিগ-বি’ প্রকল্প চালু করে জাপান। উদ্যোগটি মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার করিডোরকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল।

২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন জোরদার করতে ‘বে অব বেঙ্গল-নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি বিস্তৃত প্রস্তাব দেয় জাপান।

‘বিগ-বি’ প্রধানত তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: শিল্প ও বাণিজ্য, জ্বালানি ও পরিবহন। এর মূল উদ্দেশ্য জাপানি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, শিল্পায়নে সহায়তা দেওয়া এবং অবকাঠামো—যেমন মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাজারের সাথে যুক্ত করার জন্য পরিবহন সংযোগের উন্নতি।

মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানের প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যের সঙ্গে বন্দর অবকাঠামোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

'আমাদের ভবিষ্যৎ আমদানি-রপ্তানি পরিচালনা এবং সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বন্দরগুলোকে প্রস্তুত করা উচিত। সেভাবেই মাতারবাড়ী প্রকল্পটি সামনে এসেছে। আমাদের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর বন্দরটি যদি বাড়তি মালামাল সামলাতে পারে, তবেই আমরা বিষয়টি ভেবে দেখব,' বলেন তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ