বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐক্য

হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐক্য...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৪ পিএমসর্বশেষ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
হেফাজতের তত্ত্বাবধানে কওমি ঘরানার ৭ দলের ঐক্য

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহযোগিতায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সাতটি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই উদ্যোগকে এখনই রাজনৈতিক জোট বলতে নারাজ দলগুলোর নেতারা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার খিলগাঁওয়ে মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সাতটি দলের তিনজন করে ২১ জন প্রতিনিধি এবং হেফাজতের তিন নেতা অংশ নেন।

ঐক্যবদ্ধ হওয়া দলগুলো হলো—বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজী), নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।

টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশ, জাতি ও ইসলামের কল্যাণে সাতটি সমমনা ইসলামী দল ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্মসূচি, বিবৃতি কিংবা বিভিন্ন ইস্যুতে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

আগে ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে একটি ব্যানারে দলগুলো কাজ করত উল্লেখ করে তিনি বলেন, মূলত সেই আদলেই তারা আবারও একসঙ্গে কাজ করতে চান।

তবে এই উদ্যোগের কারণে কোনো দলকে নিজ নিজ রাজনৈতিক জোট ছাড়তে হবে না বলে জানান জালালুদ্দীন আহমদ।

তিনি বলেন, ‘এই সাত দলের একসঙ্গে চলার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে, অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে থাকা দলগুলোকে সেই জোট ছাড়তে হবে। আজকের বৈঠকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘জোটে থাকা বা না থাকার বিষয়টি প্রতিটি দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোনো দলকে অন্য কোনো জোট ছাড়ার শর্ত দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ দলীয় জোটে আছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, সাতটি দলের তিনজন করে প্রতিনিধি নিয়ে ২১ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ ডিসেম্বর পরবর্তী বৈঠকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে জানান জালালুদ্দীন আহমদ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব, মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়া; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান; খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন ও আহমদ আলী; নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির ও মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজীসহ অন্য নেতারা।

হেফাজতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আইয়ুব বাবুনগরী।

ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা চলছিল। তারই অংশ হিসেবে সাতটি দলকে নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত একে জোটের বদলে সমমনা দলগুলোর একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘জোটের রূপরেখা চূড়ান্ত হবে আরও পরে, আরও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ