শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি ভালো, মাধ্যমিকে পিছিয়ে, ৪ নতুন বইয়ের অনুমোদন রোববার

প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি ভালো, মাধ্যমিকে পিছিয়ে, ৪ নতুন বইয়ের অনুমোদন রোববার...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএমসর্বশেষ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
প্রাথমিকের বই ছাপায় অগ্রগতি ভালো, মাধ্যমিকে পিছিয়ে, ৪ নতুন বইয়ের অনুমোদন রোববার

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের বই ছাপা ও সরবরাহের অগ্রগতি সন্তোষজনক হলেও মাধ্যমিক স্তরে পিছিয়ে রয়েছে কাজ। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকায় বছরের প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই। অন্যদিকে, ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ছাপার কাজ শেষ হয়েছে। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৪০ শতাংশ বই।

এদিকে নবম-দশম শ্রেণির বই সরবরাহের অগ্রগতি এখনো প্রায় ৩ শতাংশ। এ ছাড়া চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া চারটি বইয়ের ছাপার কার্যাদেশও এখনো দেওয়া হয়নি। আগামী রোববার, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর বইগুলোর ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হতে পারে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা অবশ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ছাপা ও বিতরণ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদী। তাদের লক্ষ্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ছাপার কাজ শেষ করে বই মাঠপর্যায়ে পাঠানো। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। তবে জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্যও বই রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপা হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই। প্রাথমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে বই ছাপানোর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের বলেন, তাদের লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপার কাজ শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। এখন পর্যন্ত বই ছাপার অগ্রগতিতে তারা সন্তুষ্ট। নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে সব পাঠ্যবই তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

এর আগে ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দিয়ে আসছে সরকার। তবে বিভিন্ন বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরপর দুই শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে সব বই বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ বই সরবরাহ করতে পেরেছিল এনসিটিবি। এর আগের বছর সব বই সরবরাহ করতে প্রায় তিন মাস লেগেছিল। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে চারটি নতুন বই ছাপানোর কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত বর্ণনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনায় ভিন্নতা থাকছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ