ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের এক বার্তায় জানানো হয়, গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। মঙ্গলবার সকালেও মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে মেট্রো স্টেশনের নিচে সংঘর্ষের সময় পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে দেখা যায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকেলে শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ফের আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হলেও পরে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ জানায়, এ সময় যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সোমবার আন্দোলনরত শ্রমিকদের মিরপুরের সড়কে নামতে দেওয়া হয়নি। মিরপুর ১৪ এলাকায় শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়।



