হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বসে বিলাপ করতে করেন সালমা আক্তার।
সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উলটে যাওয়া বাসের চাপায় একমাত্র মেয়ে মাইশা মুশফিরাতকে হারিয়ে শোকে পাগলপ্রায় মা সালমা আক্তার। মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরিবেশ।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বসে বিলাপ করতে করতে সালমা আক্তার বলেন, আমার মেয়েকে আমি চোখে চোখে রাখতাম। তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। তখন মাইশা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। এরপর অনেক সংগ্রাম করে তাকে লেখাপড়া করিয়ে এতদূর এনেছি। আমার মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল। সে লেখাপড়া করবে, বড় হবে, বিসিএস পরীক্ষা দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সকালে ফোন করে মেয়ের দুর্ঘটনার খবর জানান তাকে। খবরটি শোনার পর থেকেই অজানা আশঙ্কায় ছুটে আসেন চমেক হাসপাতালে। সেখানে মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্বজনেরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও কোনোভাবেই শান্ত করা যাচ্ছিল না।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সালমা আক্তার বলেন, আমার মেয়ে আর তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে না। আমার স্বপ্নও পূরণ হলো না।
সালমা আক্তারের সাবেক সহকর্মী ও মিরসরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ পারশেদ বিন আনোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাদের পরিবারের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি লেখেন, স্বামীকে অকালে হারিয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম করে আসছিলেন সালমা আক্তার। নিজের আয়-রোজগারের পাশাপাশি মাদ্রাসার সুপার হিসেবে কর্মরত বাবার সহযোগিতায় মেয়েকে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগে ভর্তি করিয়েছিলেন। সন্তানদের নিয়ে তার সংগ্রাম ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা প্রায়ই বলতেন। আশা ছিল, একদিন মেয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তার সব দুঃখ-কষ্ট দূর করবে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাইশার ওপর লরির ধাক্কায় উলটে পড়ে একটি বাস। মুহূর্তেই নিভে যায় তরুণ এই শিক্ষার্থীর জীবন। ভেঙে যায় একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।
পারশেদ বিন আনোয়ার ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখতে রাজি নন। তার ভাষায়, এটি হত্যাকাণ্ড।






