রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি চব্বিশের পরাজিত শক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ বা ‘আস্কারা’ না দেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে।
রিজভী অভিযোগ করেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের লক্ষ্য হলো ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা। তিনি দাবি করেন, চব্বিশের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এসে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে, তাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা সফল হবে না।
রাজনৈতিক অধিকার ও সতর্কতার ওপরে টানা
দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে বলেছেন রিজভী। তাঁর ভাষায়, পরাজিত শক্তি রাজপথে কোনো কার্যক্রম চালানোর অধিকার নাও পেতে পারে, তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমাবেশ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন ও সরকারের সমালোচনাও গণতান্ত্রিক অধিকার।
তবে বিরোধী দলগুলোর প্রতি তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রিজভী বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যার সুযোগ নিয়ে পরাজিত শক্তি পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে; তবে জাতির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রশ্নে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করাই দলগুলোর মূল দায়িত্ব বলে তিনি মনে করেন।
সহিংসতা ও বিস্ফোরণের অভিযোগ
সাম্প্রতিক বসে আগুন, বিস্ফোরণ ও বোমা হামলার ঘটনাগুলোকে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা। এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দিকেও তিনি আহ্বান জানান।
বর্তমান সরকার ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শান্তি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করেছে, যার কারণেই বিরোধী দলগুলি নির্বিঘ্নে বিভিন্ন কর্মসূচি ও মিছিল পালাতে পারছে। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।


-6ab66959b519a.jpg)


-6ab63c72d2471.jpg)