সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত ট্রল ও মন্তব্যের শিকার হলেও এ বিষয়ে তেমন চিন্তিত নন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জীবনে এমন কোনো কাজ করেননি, যা নিয়ে তাঁকে ট্রল করা উচিত বলে অন্যরা মনে করতে পারেন। বরং তাঁর সরাসরি ও প্রতিবাদী স্বভাবকেই অনেকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করে ফেলে।
‘ফালতু লোক’দের সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য
ওমর সানী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধরনের লোক রয়েছে, যারা অন্যকে ট্রল করাই নিজের কাজ হিসেবে চান। তাঁদের অনেককে তিনি ‘বট বাহিনী’ও বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর দাবি, তাঁকে ট্রল করার মতো কোনো কাজ তিনি করেননি। তাঁর কর্মকাণ্ডকেও অন্যদের নিজস্ব ট্রল হিসেবে উপস্থাপন করা হয় বলেছেন তিনি।
সরাসরি কথা বলার স্বভাবই প্রধান সমস্যা
নিজের স্বভাব সম্পর্কে ওমর সানী বলেন, তিনি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ করতে পারেন। এই স্বভাব অনেকের কাছে স্বাগতযোগ্য না হলেও তিনি কোনো সমঝোমা করেন না। তাঁর মতে, একটি বক্তব্য বা কোনো কাজে কারও ‘আঁতে ঘা’ লাগলে সেটি নিয়েও তিনি পাত্তা দেন না। তাই যাঁরা এসব প্রতিক্রিয়া দেখান, তাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, যারা এভাবে কাজ করে তারা ‘ফালতু লোক’।
দামি নয়, মাত্র ১১০০ টাকার ঘড়ি
অন্যদের বাহ্যিক আড়াল নিয়ে ট্রলের একটি উদাহরণ হিসেবে নিজের ব্যবহৃত ঘড়ির কথা টানেন তিনি। তিনি বলেন, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন করে, ‘ভাই, আমার ঘড়িটা দেখছেন? এটি প্রায় ২৯ লাখ টাকার।’ কিন্তু তাঁর দাবি, বাংলাদেশে এমন দামি ঘড়ি হলেও তাঁর হাতের ঘড়ির দাম মাত্র ১১০০ টাকা। সম্পদ বা সামর্থ্য নিয়ে ফুটানি করার অভ্যাস নেঁট তিনি; মার্সিডিজ থাকার পরও সেই অভ্যাস পরিহার করেছেন বলে জানান।
পোস্ট মুছে ফেলেন না, শিল্পীরাও কম কথা বলেন
যুক্তিপূর্ণ কোনো পোস্ট বা মন্তব্যের জবাবে পোস্ট মুছে ফেলার প্রশ্নের উত্তরে ওমর সানী বলেছেন, কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে তিনি কখনো পোস্ট করেননি। তাই তেমন কোনো পোস্টের প্রমাণ দেখানোর উপায় নেই। শিল্পীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলা নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, যাঁরা আসল শিল্পী তাঁরা কম কথা বলেন, আর যাঁরা কোনো শিল্পী নন তাঁরাই বেশি বক্তৃতা দেন।






