সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদপড়ার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একই যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের আন্দোলনকারী প্ল্যাটফর্মের বরাত দিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতারা জানান, ভেরিফিকেশন শেষে বিভিন্ন জেলার ১২ শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তাদের দাবি, বাদপড়া অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই এবং তাদের বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও জানানো হয়নি।
ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও অভিযোগ করেছেন, ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় বা পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে, অথবা পরিবারের কেউ জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে যুক্ত থাকলে নিয়োগ আটকে দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচারবিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হচ্ছে এবং সরকারি চাকরিতে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার কথা উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেছেন, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়া মেধাবী তরুণদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে এসব অভিযোগ সম্পর্কে বিবৃতিতে কোনো সরকারি তদন্ত, প্রজ্ঞাপন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
ভেরিফিকেশন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও কোন প্রার্থীকে কেন এবং কী পদ্ধতিতে বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়—এমন অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতারা। তাই ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠন, প্রত্যেক বাদপড়া প্রার্থীকে কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আপিলের ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দ্রুত প্রদান, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত এবং বিষয়টি পুনঃযাচাইয়ের আহ্বানও জানানো হয়েছে।




