বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের কর-জিডিপির হার বর্তমানে সাত শতাংশের কম হলেও একসময় এটি ছিল ১০ শতাংশ। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যাপকভাবে প্রসারিত হলে বছরে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় করা সম্ভ্য হতে পারে। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রচার ও জনগণের মধ্যে কিউআর ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি করা জরুরি।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআরে এমডিআর শূন্য
গভর্নর জানান, আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক কিউআরের মাধ্যমে ১০০ টাকা পাঠালে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীও পূর্ণ ১০০ টাকা পাবেন। বর্তমানে নোট ছাপানো, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করলে এই ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করা সম্ভ্য।
শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেনে বাংলা কিউআর’ স্লোগানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ ও ‘বাংলা কিউআর’ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
কিউআর কোডের সুবিধা তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে খুচরা টাকার সমস্যা কমবে, আর লেনদেন ব্যবস্থার ব্যয়ও হ্রাস পাবে। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জিএম মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন ও বাংলা কিউআর সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে গভর্নর তাদের উত্তর দেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
-6ab7da8811a2b.jpg)





