বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি মানবপাচারের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে এবং বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে যাত্রাকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিশেষ যোগাযোগ নথি পাঠিয়েছেন।
শিবিরে ৪০৭টি পাচারের ঘটনা শনাক্ত
বিশেষজ্ঞদের ‘এএল বিজিডি ৪/২০২৬’ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে ৪০৭টি মানবপাচারের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২৪৮ জন পুরুষ, ৮৮ জন নারী, ৪১ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে রয়েছেন। আরেকজনের লিঙ্গপরিচয় অন্যভাবে নথিভুক্ত হয়েছে। মোট ভুক্তভোগীর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ৬১ শতাংশ, নারী ২২ শতাংশ, ছেলে ১০ শতাংশ এবং মেয়ে ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের হিসাব ২১ শতাংশ।
নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ ও ছেলেদের ক্ষেত্রে কৃষি, পশুপালন, মাছ ধরা, বনকাজ ও নির্মাণশ্রমে পাচারের ঘটনা পাওয়া গেছে। নারী ও মেয়েদের ক্ষেত্রে কারখানার কাজ, গৃহস্থালি শ্রম এবং জোরপূর্বক যৌনকাজে নিয়োগের তথ্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা শিশু ও তরুণদের চাকরি, শিক্ষা কিংবা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারে জড়াতে উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেছেন।
সমুদ্রপথে যাত্রা বেড়েছে, হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে
২০২৫ সালে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বের হয়েছিলেন। এই যাত্রায় প্রাণ হারানো বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৮৯০ জনের বেশি। চলতি বছরে ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৪৯ জন এই সমুদ্রপথে যাত্রা করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি।
জাতিসংঘের মানবপাচারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক সিওভান মুলালি, অভিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক গেহাদ মাদি এবং নারী ও মেয়েদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান-র্যাপোর্টিয়ার ক্লডিয়া ফ্লোরেস নথিটি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠান। তবে নথিতে স্পষ্টার্থে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রাপ্ত তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তারা আগাম কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তাই বর্তমান তথ্য ও উদ্বেগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার বদলে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নজর রাখা জরুরি।






