মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২৭ সেপ্টেম্বর তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট বাছাইপর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ উপস্থিত ছিলেন। শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অধিনায়কদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
জুনিয়র ওয়ারিয়র্স ক্লাবের অধিনায়ক শাওন মিরাজ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, সবাই সাকিব আল হাসানের মতো হতে চায়; মেহেদী হাসান মিরাজ হতে হলে কী করতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে মিরাজ বলেন, প্রত্যেক ক্রিকেটারের নিজস্ব পরিচয় ও প্রতিভা রয়েছে। তাই অন্য কারও অনুকরণ করার চেষ্টা না করে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়াই উত্তম।
তিনি বলেন, “সাকিব ভাই তাঁর নিজের জায়গায় অনন্য এবং আমিও আমি।” তরুণ ক্রিকেটারদেরও নিজেদের পৃথক পরিচয় তৈরি করতে হবে। নিজের সম্পর্কে বিশ্বাস রাখা, সঠিক মানসিকতা নিয়ে এগোনো এবং কঠোর পরিশ্রম করলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। পাশাপাশি মাঠে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করতে হবে। তিনি জানান, এমন মানসিকতা থাকলে কেউ তাঁর চেয়েও ভালো ক্রিকেটার হতে পারে।
ক্রিকেট শটিং এড়িয়ে যাওয়া সহজ হলেও জাতীয় দলের এই বোলার বলেন, প্রতিটি খেলোয়াড়ের জীবনে ভালো ও খারাপ—উভয় সময়ই আসে। কঠিন সময়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকা, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা ও পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া জরুরি। এই বিষয়গুলোতে ধৈর্য ধরে এগোলে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
পাওয়ারপ্লে ও ডেথ ওভারে বোলিংয়ের কৌশল নিয়েও কথা বলেন মিরাজ। তাঁর মতে, ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলে বোলারের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়ে; সেই সঙ্গে উইকেট পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত উইকেটের চেষ্টা করলে রান দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই ডট বলের দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত। ডেথ ওভারে কী করতে হবে সে বিষয়ে পরিকল্পনা পুরোপুরি পরিষ্কার থাকা জরুরি।
দলের বিপর্যয়ের সময় তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। নিজের সঙ্গে কথা বলে আত্মবিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। নিজের সামর্থ্যের ওপর ভরসা রেখে সেই ইতিবাচক মানসিকতা দলের অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভে হলে বিপর্যয়েও দলকে সামলানো সহজ হবে বলে মনে করেন জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার।





