রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর টিকাদান কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে চালিয়ে নিতে এগিয়ে এসেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। শনিবার আক্রান্ত কেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে তিনি মিরপুরস্থ নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়টিকে অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেন। কার্যালয়টি রুহানি টাওয়ারের তৃতীয় তলায় অবস্থিত।
গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তুলি বলেন, হামলা ও দখলের ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত পরিচালনা করছে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখোমুখি হওয়া এড়াতে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তিনি টিকাদান কেন্দ্রটির সঙ্গে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের সমন্বয়ে অস্থায়ী কেন্দ্র চালুর বিষয়টি এগিয়ে নিতে চান। তাঁর মতে, উপযুক্ত সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে টিকা প্রদানের কাজ যেন যথাযথ সময়ে ও যথাযথ প্রস্তুতির মধ্যে চলতে পারে। প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করা হয়।
হামলার পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ কেন্দ্রটির স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর কেন্দ্রটিতে টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যায়নি। সানজিদা ইসলাম তুলি এখন ভাঙচুরের শিকার ও দখলের ঘটনায় দায়ীদের গুমানি ও আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানান সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন। গুম হওয়া পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাকের’ অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত তিনি উদ্বৃত্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি মিরপুরের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।






-6ab8bdd74dab2.jpg)