শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি খেলাপি ঋণ, নির্দেশনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের

দেশের খেলাপি ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে পুঞ্জিত হয়েছে। নগদ আদায়, ঋণের গুণগত মান যাচাই, আমানত বৃদ্ধি ও মূলধন সুস্থতার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪২ পিএমসর্বশেষ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪২ পিএম
রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি খেলাপি ঋণ, নির্দেশনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের

দেশে খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকে জমা আছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোর কাছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে, যা দেশের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। ব্যাংকভেদে অগ্রণী ব্যাংকে ২৯ হাজার ২৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে প্রায় ৮৮৯ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকে ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকে ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকে ১৯ হাজার ২৮১ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকে ১৫ হাজার ৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আছে।

খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ছয়টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে নগদ আদায় বাড়ানো, ঋণ বিতরণের গুণগত মান যাচাই, আমানত বৃদ্ধি এবং মূলধনের পরিস্থিতি উন্নত করার নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপির তালিকা তৈরির পাশাপাশি ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পরিপালনযোগ্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় নগদ আদায়, জামানত নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সুশাসন শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

আদায় ও মূলধন সংকটে সমাধানের চেষ্টা

ব্যাংকগুলোর উচ্চ হারে খেলাপি ঋণ থাকায় বড় ধরনের প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার এসব ব্যাংককে মূলধন সহায়তা দিতে পারে, তবে ঋণ আদায় বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ এবং লাভজনক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। বিশেষজ্ঞরা ব্যাংকগুলোর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে খেলাপি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা, জামানত আদায় এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অঙ্গীভূতি কতটা কার্যকর হবে, তা ইতিমধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংক পুনরুদ্ধারে সরকারের স্পষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীভূতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নগদ আদায়কে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, জামানত বিক্রি বা অন্য সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে আদায় চেষ্টা করলে নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, খেলাপি ঋণ আদায় সত্যিই কঠিন এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আমানত বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং নতুন নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত খেলাপি ঋণের এই বিশাল ভারসাম্য সামলাতে হলে শুধু নির্দেশনা নয়, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নগদ আদায় ও কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ