শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বিনোদন

মঞ্চায়নের ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’-তে স্বাধীনতার প্রশ্ন

রবীন্দ্রনাথের ‘দুই পাখি’ ও ‘রক্তকরবী’-কে আশ্রয় করে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা মঞ্চে এসেছে। নাটকটি স্বাধীনতা, পরাধীনতা, মুক্তি ও মানবিকতার দ্বন্দ্বকে সামনে রাখছে।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৬ এএমসর্বশেষ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১৬ এএম
মঞ্চায়নের ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’-তে স্বাধীনতার প্রশ্ন

প্রাচুর্য, বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিনিময়ে পরাধীনতা, নাকি অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যেও স্বাধীন জীবন—এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্রে রেখে মঞ্চে এসেছে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ প্রযোজনায় দর্শকদের বিনোদনের পাশাপাশি মুক্তি ও মানবিকতার প্রশ্ন তুলে ধরার আশা করেছেন নির্দেশক ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই পাখি’ কবিতা এবং ‘রক্তকরবী’ নাটকের নন্দিনী চরিত্রকে আশ্রয় করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। নাটকের দুই পাখির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার দুই সত্তার সাক্ষাৎ ঘটানো হয়েছে। সোনার খাঁচায় নিরাপদ জীবন কিংবা ঝুঁকি ও কষ্টের মধ্যে মুক্ত বনের পাখির মতো স্বাধীন জীবন—কোন পথে অবস্থান করবে, তা নিয়ে দুই চরিত্রের দ্বন্দ্ব সামনে রাখা হয়েছে।

খাঁচার পাখি ও বনের পাখি নিজস্ব শক্তিতে মুক্তির পথ খুঁজে পেতে না পারলে ‘রক্তকরবী’-র নন্দিনীর আবির্ভাব ঘটে। যক্ষপুরীর মকররাজের শোষণ ও ভয়ভীতির মধ্যে যাঁরা খনিতে শ্রম দিতে দিতে যন্ত্রে পরিণত হয়েছে, তাদের মানবিক অস্তিত্ব ও মুক্তির পথের সন্ধান দেয় নন্দিনী। বর্তমানের ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শোষণ-শাসন ও আগ্রাসনের বাস্তবতায় মানুষের জীবন যখন ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, এই ভাবনাকে নতুন শিল্পরূপ দিয়েছেন লাকী ইনাম।

লাকী ইনাম বলেন, ‘দুই পাখি’ ও ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথের একই বক্তব্যের দুই ধরনের শিল্পরূপ; সেই বক্তব্য হলো সর্বপ্রাণী ও সব মানুষের স্বাধীনতা। তাঁর মতে, স্বাধীনতা শুধু আবদ্ধ প্রাচীর বা খাঁচা ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত স্বাধীনতা হলো অন্যকে প্রাচীরে আটকে রাখা বা খাঁচায় পুরে রাখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা এবং নিজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাঁচার পাশাপাশি অন্যকে নিয়েও বাঁচার সুযোগ তৈরি করা।

নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২৮তম প্রযোজনা হিসেবে নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন লাকী ইনাম। গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি ৭৫ বছরে পদার্পণ করলেও জন্মদিন উদযাপনের বদলে নতুন নাটক সৃষ্টি ও মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শিল্পজীবন উদযাপন বেছে নিয়েছেন। নাটকের পাণ্ডুলিপি রচনায় লাকী ইনামকে ভাবনা দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছেন অভিনেতা হৃদি হক। অভিনয়, মঞ্চসজ্জা, আবহসংগীত, পোশাক ও দ্রব্যসম্ভারে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাট্যকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন; আলোকবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন আলোর পুরোধা ঠান্ডু রায়হান।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ