বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

অর্থনীতি ও বাণিজ্য

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অ্যাসিটেট টো আমদানি, বিপুল রাজস্ব আদায়ের সম্ভাব্য ঘটনা ফুটে উঠেছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে আটকে থাকা একটি চালান থেকে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। একই চালানের অ্যাসিটেট টো সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহার হলে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণসর্বশেষ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অ্যাসিটেট টো আমদানি, বিপুল রাজস্ব আদায়ের সম্ভাব্য ঘটনা ফুটে উঠেছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেট ফিল্টার তৈরিতে প্রয়োজনীয় প্রধান্য কাঁচামাল হিসেবে অ্যাসিটেট টো আমদানির ঘটনা উদঘাটন করেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজস্ব আদায়ের সম্ভাব্য চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

সিআইসির ঝুঁকিভিত্তিক যাচাই ও হস্তক্ষেপে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একটি চালানের খালাস স্থগিত করে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে। আটকে থাকা চালানটিতে দুই কনটেইনারে মোট ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করা হয়েছিল।

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান ও আমদানি পদ্ধতি

তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অ্যাসিটেট টো আমদানির বিষয়টি নিয়ে আসকাক সিগারেট ফিল্টার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। সম্প্রতি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে এ পণ্যের আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সিআইসি তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে। এতে ইউনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আমদানি বিশেষভাবে নজরে আসে।

ভ্যাট বিভাগের তথ্য অনুসারে, ইউনিক ট্রেডার্স তার নিবন্ধিত ঠিকানায় কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এমনকি নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন বা সংশ্লিষ্ট দলিলাদি দাখিল করছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে অস্তিত্বহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই তথ্য পাওয়ার পর সরকারের রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

সিআইসি জানিয়েছে, সিগারেট উৎপাদনকারী দুটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের মূসক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি এক কেজি অ্যাসিটেট টো থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। এই হিসাব করে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। মাঝারি শ্রেণির সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক ও সম্পূরক শুল্কসহ প্রযোজ্য রাজস্বের হার প্রায় ৮২ শতাংশ বিবেচনায় নিলে এই পরিমাণ সিগারেটের সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ শ্রেণির সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১৬০ টাকা হলে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, দৈনিক প্রতিদিন। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ