ভারতীয় ক্রিকেটের দুই অতি গুরুত্বপূর্ণ সিল্কিং টিমের শুরুর দিকে একই স্কুলে পড়েছিলেন সচীন টেন্ডুলকার ও বিনোদ কাম্বলি। স্কুলজীবনে তাঁদের মধ্যে কে বেশি ভালো ক্রিকেটার ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাম্বলির নামই বেশি শোনা যেত। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবও তাঁকে শচীনের চেয়ে বেশি প্রতিভাবান বলে উল্লেখ করেছিলেন।
পরবর্তীতে সচীন টেন্ডুলকার বিরল ক্যারিয়ারে টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হিসেবে বহু আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন। বিনোদ কাম্বলির ক্রিকেট ক্যারিয়ার যতটা প্রতিশ্রুতি তৈরি করেছিল, ততটা এগোতে পারেনি। তাঁর প্রতিভা ও সম্ভাবনা নিয়ে অনেক আশা ছিল, তবে ভারতীয় জাতীয় দলে তাঁর সুযোগ সীমিত থেকে যায়।
সাম্প্রতিক একটি ভিডিওবার্তায় বিনোদ কাম্বলি একটি বৃদ্ধাশ্রমের বর্ণনা দেন। ভিডিওতে তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হলেও, সেখানকার সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বৃদ্ধাশ্রমটির পরিবেশ তাঁর নিজের বাড়ির মতোই অনুভূত হচ্ছে। এ থেকেই তাঁর বর্তমানে একটি বৃদ্ধাশ্রমে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক
বিনোদ কাম্বলির ৫৪ বছর বয়সে সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যতন্ত্র নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বন্ধু ও সাবেক ফার্স্ট ক্লাস আম্পায়ার মার্কাস কৌতো দাবি করেন, মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে কাম্বলির স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব পড়েছে। কৌতো আরও বলেন, গত ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধা অবস্থায় রয়েছে এবং তিনি কথা বলার পরও অনেক কিছু ভুলে যেতে পারেন।
তবে এসব দাবির বিপরীতে কাম্বলির স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউইট ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে বলেছেন, ঈশ্বরের কৃপায় তাঁর স্বামী ভালো আছেন এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সাবেক আম্পায়ার দাবি করেন, কাম্বলি মদ্যপান ছেড়ে দিয়েছেন, তবে মাঝে মাঝে ধূমপান করেন। চিকিৎসক ডা. আদিল চাগলার পরামর্শ অনুযায়ী, স্মৃতিশক্তি ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তাঁকে ধূমপান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
ভারতীয় ক্রিকেটে বিনোদ কাম্বলি একটি অত্যন্ত প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। তবে দুর্দান্ত শুরুর পরও পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি মাত্র ১৭টি টেস্ট ও ১০৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। সচীনের সমান্তরাল গল্পের শেষে যেখানে বিশ্বরেকর্ড ও অসংখ্য সাফল্য রয়েছে, কাম্বলির ক্যারিয়ারে তেমন স্থায়ী মাইলফলক বসেনি।


-6ab789124f207.jpg)

