টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে চান। তাঁর লক্ষ্য কেবল জনপ্রিয়তা অর্জন নয়; বরং মানুষের গল্প বলতে চাওয়া। তিনি বলেন, কাল্পনিক চরিত্রের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চরিত্রগুলোকেও সমানভাবে কাজ করে যেতে চান, যাতে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানা চরিত্রের মধ্য দিয়ে নিজেকে খুঁজে বের করতে পারেন। বিভিন্ন গল্প ও চরিত্র পর্দায় উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে দীর্ঘ সফর পর্যন্ত যেতে চান তিনি।
সদ্য মঞ্চে আসা নাটক ‘লালপরী’ তাঁর অভিনয়ের নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে। নাটকটির নির্মাতা জোবায়ের আবীর পিয়ালের পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অর্চিতা। বহমান সময়ের সামাজিক চরিত্রগুলোকে বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরার চ্যালেঞ্জকে তিনি গ্রহণ করেছেন। চরিত্রগুলোর প্রতি তাঁর আলাদা মনোযোগ থাকলেও দর্শকের কাছে সেগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপনের জন্য তিনি সবসময় প্রস্তুত বলে জানান।
অর্চিতার অভিনয়করণ ও পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি অনেকের থেকে আলাদা। জনপ্রিয়তার দৌড়ে না ছুটে নিজের মতো কাজ করে যাওয়ার প্রবণতা তাঁকে আলাদা করেছে। পরিণত শিল্পী হওয়ার দিকে তিনি ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছেন। পর্দায় তাঁর স্বতন্ত্র উপস্থিতি ও সাবলীল অভিনয় দর্শকের মনে গেঁথে গেছে, আর একই সঙ্গে তাঁর কাজের পরিধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে যে সূত্রে অর্চিতা অভিনয় জগতে পা রাখেন, তখন তিনি জানতেন না এ পথ কতদূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে। প্রথম কয়েকটি নাটকের পর কাজের ধারা থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। নাটক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমায় সমানভাবে কাজ করতে করতে তিনি অভিনয় জগতে প্রায় দেড় দশক পেরিয়েছেন। এই ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘ সময় টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ—এই বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেন, এখনও টিকে থাকতে পারাই তাঁর সবচেয়ে বড় সাফল্য।
তাঁর অভিনয়ের পথে রয়েছে নাটক, টেলিফিল্ম, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমা—বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গল্প। ‘ঘূর্ণিপাক’, ‘দূরত্ব’, ‘অসহায়’, ‘এলগরিদম’, ‘এই গল্পের নাম কী’, ‘জার্নি বাই রোমান্স’, ‘সুবর্ণপুর বেশি দূরে নয়’, ‘নূর’ ও ‘চিরকুট’-এর মতো কাজগুলোতেও তিনি বিভিন্ন মাত্রার চরিত্র উপস্থাপন করেছেন। বাস্তবতা, সংলাপ, পরিস্থিতি ও মানবিক দিক নিয়ে কাজ করার প্রতি আগ্রহের কারণেই তাঁর একটি আলাদা পরিচয় তৈরি হয়েছে।

-6ab6e811f2495.jpg)
-6ab6fc3012098.jpg)



