জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপমহাদেশের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রাজনীতিবিদ ও তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকাল ৫টায় পাবনা প্রেসক্লাবে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান।
আলোচনা সভার শুরুতে প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরাবতা পালন করেন সভায় উপস্থিতরা। পরে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম, বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায়, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য আমীরুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চলের সংগঠক আমজাদ হোসেন এবং ঈশ্বরদী শাখার সংগঠক মনোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন। সভা পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চল সংগঠক শ্রমিক নেতা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ।
সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, বদরুদ্দীন উমরের সমগ্র জীবন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবী আন্দোলনের বিকাশে ব্যয় হয়েছে। তিনি ১৯৭২ সালের পর দেশের শাসনক্ষমতা কীভাবে লুটেরা, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ শাসকশ্রেণীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, জাতীয় সংসদ ও সরকার কীভাবে এই ব্যবসায়ী শ্রেণীর নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দেশ চলে গেছে—এসব বিষয়ে তাঁর বিশ্লেষণকে তিনি তুলে ধরেন। শ্রমিক-কৃষক-জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার সংগ্রামে নির্বাচনের পথ নয়, গণঅভ্যুত্থানের পথ সামনে আনার কাজও তিনি করেছিলেন বলে জানানো হয়।
ফয়জুল হাকিম বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক শিক্ষা, সংগঠন গড়ে তোলা এবং বিপ্লবের তত্ত্ব ও রণকৌশল নির্ধারণে তাঁর ভূমিকার প্রতি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, শোষণ, বৈষম্য, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও দুর্নীতির ব্যবস্থা উচ্ছেদের রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করতে উমর শ্রমিক, কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তারে মনোযোগ দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ২৪শের জুলাইয়ের আন্দোলনকে একটি ব্যাপক, বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক গণঅভ্যুত্থান হিসেবে সর্বপ্রথম চিহ্নিত করার কৃতিত্ব ছিল উমরের।
সজীব রায় মনে করিয়ে দেন যে, বদরুদ্দীন উমর সারাজীবন সমাজবিপ্লবের লক্ষ্যে লেখালেখি করেছেন এবং বাংলাদেশের নির্দিষ্ট বাস্তবতায় বিপ্লবের তত্ত্ব নির্মাণ করেছেন। শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মধ্যে সংগঠন গড়ে তুলতে তিনি যে ভূমিকা রাখেন, তা তাঁর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের অংশ। সভায় বক্তারা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা ও সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে ধরে রাখার আহ্বান জানান।



-6ab89f23c1317.jpg)