জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, উপমহাদেশের মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রাজনীতিবিদ ও তাত্ত্বিক বদরুদ্দীন উমরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকাল ৫টায় পাবনা প্রেসক্লাবে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চলের সংগঠক শ্রমিক নেতা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ।
সভার শুরুতে প্রয়াত বদরুদ্দীন উমরের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন অনুষ্ঠানিকে। সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, বদরুদ্দীন উমরের সমগ্র জীবন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবী আন্দোলন বিকাশে নিয়োজিত ছিল। তিনি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দেশের শাসনক্ষমতা যে কীভাবে লুটেরা, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজ শ্রেণির হাতে চলে গেছে, তা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন এবং এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লড়াই অব্যাহত রাখতে বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন।
মজিবর রহমান আরও বলেন, শ্রমিক-কৃষক-জনগণের হাতে ক্ষমতা আনার সংগ্রামের পথ নির্বাচনে সীমাবদ্ধ না রেখে গণঅভ্যুত্থানের দিকে উপস্থাপন করেছিলেন বদরুদ্দীন উমর। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম বলেন, শোষণ, বৈষম্য, নির্যাতন, লুণ্ঠন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রাম জোরদার করতে এবং শ্রমিক, কৃষক, নিপীড়িত জাতি ও জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন বদরুদ্দীন উমর।
ফয়জুল হাকিম সভায় বলেন, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও ঐতিহাসিক বাস্তবতায় বিপ্লবের রণনীতি ও রণকৌশল নির্ধারণে বদরুদ্দীন উমর ছিলেন বিশেষজ্ঞ। তিনি ১৯৭৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনকে ব্যাপক, বিস্তৃত ও আক্রমণাত্মক গণঅভ্যুত্থান হিসেবে সর্বপ্রথম চিহ্নিত করেছিলেন বলে তিনি জানান। তাঁর শিক্ষা অনুধাবন করে নতুন প্রজন্মকে সংগঠন ও সংগ্রামের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করতে হবে বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।
আলোচনায় অন্যান্য বক্তারাও বদরুদ্দীন উমরের রাজনৈতিক ও দার্শনিক অবদান তুলে ধরেন। বাংলাদেশ কৃষক ও গ্রামীণ মজুর ফেডারেশনের সভাপতি সজীব রায় বলেন, উমর একদিকে লেখালেখির মাধ্যমে সমাজবিপ্লবের লক্ষ্যে কাজ করেছেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের বাস্তবতা অনুযায়ী বিপ্লবের তত্ত্ব নির্মাণ ও শোষিত মানুষের মধ্যে সংগঠন গড়ে তুলেছেন। সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ লেখক শিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য আমীরুল ইসলাম, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল পাবনা অঞ্চলের সংগঠক আমজাদ হোসেন এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঈশ্বরদী শাখার সংগঠক মনোয়ার হোসেন।




