শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

রাজনীতি

সাত মাসে দুইবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: এবির অভিযোগে ‘দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’

বিশ্ববাজার ও আমদানি ব্যয়ের চাপ থাকলেও ধাপে ধাপে ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য সমন্বয় করা সম্ভব—এমন দাবি করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সাত মাসে দুইবার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানোকে সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ বলে চিহ্নিত করেছেন।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পিএমসর্বশেষ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
সাত মাসে দুইবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধি: এবির অভিযোগে ‘দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সাত মাসে দুইবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোকে সরকারের ‘দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বলে দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

মঞ্জু বলেন, সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে; ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকায় উঠেছে। কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার বেশি হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কৃষক, শ্রমিক, পরিবহন খাত ও সাধারণ ভোক্তার ওপর পড়বে বলে তিনি জানান। তিনি বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত এবং পরিবহন ও আমদানি ব্যয় বাড়ার বাস্তবতা স্বীকার করে বলেন, এসব চাপ একসঙ্গে জনগণের ওপর না চাপিয়ে ধাপে ধাপে ভারসাম্যপূর্ণভাবে মূল্য সমন্বয় করা যেত।

ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টার ও অন্যান্য কৃষিযন্ত্র পরিচালনার ব্যয় বাড়বে, ফলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে পারে বলে মঞ্জু বিশেষভাবে আউল্লাখ করেন। সামনে বোরো মৌসুম থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আরও বেশি হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়লে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর নতুন করে চাপ পড়বে।

এবি পার্টির ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল বক্তব্য দেন। জনগণের কাছে বিপিসির দাবি করা লোকসানের পূর্ণ হিসাব প্রকাশের দাবি করে তিনি বলেন, সরকার জানিয়েছে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রি করায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে। ওই অভিযোগ সত্য হলেও আন্তর্জাতিক বাজারদর, ফ্রেইট, ইনস্যুরেন্স, এক্সচেঞ্জ রেট, ট্যাক্স, হ্যান্ডলিং, ডিস্ট্রিবিউশন খরচ ও বিপিসির প্রকৃত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত।

এই লক্ষ্যে নোমান কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর চাপ কমাতে পৃথক মূল্যনীতি গ্রহণ এবং একবারে বড় মূল্যবৃদ্ধির বদলে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানান। তিনি আন্তর্জাতিক বাজার, ফ্রেইট, এক্সচেঞ্জ রেট, আমদানি ব্যয় ও করের ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ কার্যকর করতে এবং দাম কমলে তার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। সংকটকালে আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়ের পাশাপাশি বিপিসির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপচয় ও জ্বালানি চুরি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ