পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশের ঢাকা কনসার্ট শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ার পর সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ভারসাম্যহীনতার প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের ব্যান্ডদল মাইলসের সদস্য ও সংগীতশিল্পী হামিন আহমেদ। তিনি জানতে চেয়েছেন, গত ৫ বছরে কতজন বাংলাদেশি শিল্পী বা ব্যান্ড পাকিস্তানে গিয়ে পারফর্ম করেছে। তাঁর মতে, এক দেশের শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হলে অন্য দেশের সংস্কৃতিকেও একইভাবে সম্মান ও সুযোগ দেওয়া উচিত।
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানির বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে ‘কাভিশ লাইভ ইন ঢাকা’ কনসার্ট হওয়ার কথা ছিল। কাভিশের পাশাপাশি একই মঞ্চে বাংলাদেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন ও মেঘদল পারফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রাইমওয়েভ কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, অনুমোদনের অপেক্ষায় কনসার্টটি আপাতত বাতিল রাখা হয়েছে।
একই দিনে আরেকটি আন্তর্জাতিক কনসার্ট স্থগিত
ঢাকায় আন্তর্জাতিক কনসার্টের ধারাবাহিক স্থগিত হওয়ার আখ্যার মধ্যে শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর অন্য একটি কনসার্টও বাতিল হয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের আলী আজমত, মুস্তাফা জাহিদ ও ব্যান্ড জালের পাশাপাশি বাংলাদেশের জেমস, নেমেসিস ও লেভেল ফাইভের পারফর্ম করার কথা ছিল। নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল যে কনসার্টটি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটিও স্থগিত করা হয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স রিপাব্লিক জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে কনসার্টটি স্থগিত করা হয়েছে। এ ধরনের অনুষ্ঠান বারবার স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশ ও বিদেশি শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় কতটা বাস্তবে এগিয়ে না পারছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন হামিন আহমেদ। তিনি বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক আদান-প্রদানের কমতির দিকে তীব্রভাবে অভিযোগ করেছেন।
টিকিট বিক্রি ও অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন
নিজের ফেসবুকে কনসার্ট স্থগিতের সংবাদ ফটোকার্ড শেয়ার করে হামিন আহমেদ লিখেছেন, ‘কোনো একপেশে বিষয় কখনো টেকে না। এটি পারস্পরিক হতে হবে, নয়তো একেবারেই না!’ তিনি বাংলাদেশি শিল্পী বা ব্যান্ডের পাকিস্তানে পারফর্মের সংখ্যা জানতে চেয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান খুবই কম।
হামিন আহমেদ বলেছেন, বিপরীত দিকের দরজা বন্ধ থাকলে বাংলাদেশের নিজের দরজা খোলার কোনো কারণ নেই। শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ সবসময় পারস্পরিক হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর কাছে পূর্ণ অনুমতি না পাওয়ার আগে টিকিট বিক্রির অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নও তুলেছেন। তাঁর মতে, একাধিকবার অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্তর খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।





