চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির কাজ হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রোডম্যাপের খসড়া ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করবে। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, খসড়ায় ট্যানারি মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিবিদদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা প্রতিফলিত করা হবে।
রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ প্রণয়নে কাজ করছে।
বাণিজ্য সচিব বলেন, দেশে চামড়ার কাঁচামাল এবং প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতা রয়েছে। দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগও রয়েছে। বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিল্পগবেষণা জোরদার করতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক ও উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করতে হবে। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। এতে গবেষণার ফল উৎপাদনশিল্পে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়, যার বেশির ভাগ রপ্তানি হয় এবং অবশিষ্ট অংশ দেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। দেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। দেশে প্রায় ৫ হাজার ৫৫০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম। দেশীয় কোম্পানিগুলোর বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়াদেশ পাওয়ায় খাতের উদ্যোক্তরা ব্যবসা সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।



