বিশ্বের বৃহত্তম মুক্তবাণিজ্য জোট রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের সদস্যপদ পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। জোটের বাণিজ্যমন্ত্রীরা বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের সদস্যপদ প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ বা অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন। ফলে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি কাজ এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে।
নতুন কর্মপক্ষণের অওতায় চার দেশ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আরসিইপির পঞ্চম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রীরা আরসিইপি জয়েন্ট কমিটির দেওয়া সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানান। বিশেষ কর্মপক্ষণের আওতায় থাকবে বাংলাদেশ, চিলি, শ্রীলংকা ও হংকং। আরসিইপির নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী এই কর্মপক্ষণ আগ্রহী দেশ ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ এগিয়ে নেবে।
এলডিসি উত্তরণের পর বাজার সুযোগের চ্যালেঞ্জ
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আরসিইপিতে যোগদান বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বাজারে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে সদস্যপদ প্রাপ্তি হলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বড় অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীরতর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
আরসিইপিতে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হলে পণ্য রপ্তানি, সরবরাহ ব্যবস্থায় সংযুক্তি, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাদুকা, কৃষিপণ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের রপ্তানিতে আঞ্চলিক বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
খোলা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্যে প্রতিশ্রুতি
বৈঠকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে আরসিইপিকে একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্য কাঠামো হিসেবে বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সদস্যপদ প্রত্যাশী দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধা দূর করা এবং ডব্লিউটিওর সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হলে সদস্য দেশগুলোর সমন্বয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ শক্তিশালী করার নতুন কৌশলও নির্ধারণ করা সম্ভব।





