ভিন্স গিলিগানের তৈরি ক্রাইম ড্রামা ‘ব্রেকিং ব্যাড’ একুশ শতকের সেরা টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে সিরিজটিকে প্রথম স্থানে রাখে। জরিপে অংশ নেন ৫১৬ জন অভিনেতা, লেখক, প্রযোজক, শোরানা ও টেলিভিশন নির্বাহী। ২০০০ সালের ১ জানুয়ারির পর প্রচারিত সিরিজগুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেক ভোটদাতাকে সর্বোচ্চ ১০টি পছন্দের নাম দিতে বলা হয়েছিল।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রটি হলো ওয়াল্টার হোয়াইট। ব্রায়ান ক্র্যানস্টন অভিনীত এই চরিত্র একজন নিজুত শান্ত স্বভাবের রসায়ন শিক্ষক থেকে ধীরে ধীরে ভয়ংকর অপরাধী ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ক্যানসারের সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে জীবনের গতি বদলে ওয়াল্টার যখন কুখ্যাত মেথামফেটামিন প্রস্তুতকারক ‘হাইজেনবার্গ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, তখন চরিত্রটি ধারাবাহিকভাবে অত্যন্ত জটিল আবেগ তৈরি করে। এই রূপান্তরকে টেলিভিশন ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে ধরা হয়।
সিরিজটির অপর প্রধান আকর্ষণ হলো অ্যারন পল অভিনীত জেসি পিংকম্যান। জেসির ভাঙাচোরা সংসার, নিজের ভ্রূণের স্বার্থে জড়িয়ে থাকা সম্পর্ক এবং বারবার বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া—এসব বিষয় তাঁর চরিত্রকে গল্পের আবেগের কেন্দ্রে রেখেছে। ওয়াল্টারের নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধের জগতের সঙ্গে জেসির মানবিক সংগ্রামের সংঘর্ষ সিরিজটিকে টানটান ও বহুস্তরের গল্পে পরিণত করেছে। এই কারণেই পেশাজীবী ও দর্শক—উভয় ক্ষেত্রে সিরিজটির তাৎপর্যপূর্ণ প্রশংসা দেখা গেছে।
জরিপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘দ্য ওয়্যার’। এর পরের অবস্থানগুলোতে যথাক্রমে ‘ম্যাড মেন’, ‘সাকসেশন’, ‘ফ্লিব্যাগ’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘ভিপ’, ‘৩০ রক’, ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ও ‘আটলান্টা’ রয়েছে। তালিকায় শুধু নাটক বা জনপ্রিয় ড্রামা সিরিজই অন্তর্ভুক্ত হয়নি; রিয়্যালিটি শো, তথ্যচিত্র, টক শো এবং ইউটিউব সিরিজও বিবেচনা করা হয়েছে। তবে জরিপটি সাধারণ দর্শকদের বদলে টেলিভিশন শিল্পের পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়ায় এই ক্ষেত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
অ্যানিমেশন সিরিজের প্রায় অনুপস্থিতিও আলোচনার বিষয় হয়েছে। আবার ‘দ্য সোপ্রানোস’-এর নাম তালিকায় না থাকার পেছনে একটি সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। সিরিজটি ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রচারিত হওয়ায় ২০০০ সালের পরের কাজ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ পায়নি। এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক গল্প, চরিত্রের বিকাশ এবং নির্মাণশৈলীর দিক থেকে নিজস্ব শক্তিশালী পরিচয়ের কারণে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল।





