অমেরিকান টেলিভিশনের ইতিহাসে একুশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী ধারাবাহিক হিসেবে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর নাম উঠল। সাম্প্রতিক এক জরিপে ৫১৬ জন অভিনেতা, লেখক, প্রযোজক, শোরানার ও টেলিভিশন নির্বাহীকে অংশগ্রহণ করানো হয়েছিল। ২০০০ সালের ১ জানুয়ারির পর প্রচারিত সিরিজগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০টি পছন্দ নির্বাচনের সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও ক্রাইম ড্রামাটি সর্বাধিক ভোট পেয়ে শীর্মানা অর্জন করেছে।
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রচারিত ভিন্স গিলিগানের এই সিরিজের কেন্দ্রে রয়েছে ওয়াল্টার হোয়াইট। রসায়নের শিক্ষক হিসেবে শান্ত জীবন কাটানো ওয়াল্টার ক্যানসারের আঘাতে ভেঙে পড়েন। এরপর ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে কুখ্যাত মেথামফেটামিন প্রস্তুতকারক ‘হাইজেনবার্গ’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। একজন সাধারণ শিক্ষক থেকে নৈতিকভাবে অপরাধী ও ভয়ংকর স্বধর্মী ব্যক্তিতে পরিণত হওয়ার এই যাত্রাই সিরিজটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক।
ওয়াল্টারের ভূমিকায় অভিনয় করা ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের রূপান্তরকে টেলিভিশনের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অ্যারন পল অভিনীত জেসি পিংকম্যান চরিত্রটিও গল্পের আবেগ ও নৈতিক দ্বন্দ্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চরিত্রের ধারাবাহিক বিকাশ, পরিবার ও বন্ধুত্বের জটিলতা এবং অপরাধের জগতকে উত্তেজনার সঙ্গে তুলে ধরার নৈতিকতা ‘ব্রেকিং ব্যাড’-কে দর্শকদের কাছে স্মরণীয় করে তুলেছে।
জরিপে নির্বাচিত শীর্ষ দশ সিরিজের মধ্যে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-র পর রয়েছে যথাক্রমে ‘দ্য ওয়্যার’, ‘ম্যাড মেন’, ‘সাকসেশন’, ‘ফ্লিব্যাগ’, ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘ভিপ’, ‘৩০ রক’, ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ও ‘আটলান্টা’। পেশাজীবীদের মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ না থাকলেও সাধারণ দর্শকদের হিসাব রাখা হয়েছে কি না, অ্যানিমেশন সিরিজের অনুপস্থিতি কেন বিবেচনা করা হয়নি এবং ভিন্ন ধরনের বিষয়বস্তুর প্রতি নির্বাচনী পক্ষপাতের প্রশ্ন তুলেছে অনেকে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়েছে ‘দ্য সোপ্রানোস’-এর অনুপস্থিতি। সিরিজটি ১৯৯৯ সালে প্রচারিত হওয়ায় ২০০০ সালের পরের সিরিজের জন্য গঠিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়নি। তবে জরিপে অংশ নেওয়া টেলিভিশন সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, ধারাবাহিক গল্প, চরিত্রের জটিল বিকাশ ও নিমাণশৈলীর কারণে একুশ শতকের সেরা সিরিজ হিসেবে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ তার প্রতিষ্ঠিত অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে।





