টেলিভিশন পেশাজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপে একুশ শতকের সেরা টিলিভিশন সিরিজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘ব্রেকিং ব্যাড’। সিরিজটির প্রচারিত হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত। নিউইয়র্ক টাইমসের জরিপে এটি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে শীর্ষস্থান অর্থ করেছে। জরিপে অংশ নিয়েছেন ৫১৬ জন অভিনেতা, লেখক, প্রযোজক, শোরানার ও টেলিভিশন নির্বাহী।
২০০০ সালের ১ জানুয়ারির পর প্রচারিত সিরিজগুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেক জরিপদাতাকে সর্বোচ্চ ১০টি পছন্দের সিরিজের নাম দিতে হয়েছে। ভিন্স গিলিগানের তৈরি ক্রাইম ড্রামা ‘ব্রেকিং ব্যাড’ ভোটের ফলাফলে সবার ওপরে উঠে আসে। ড্রামা সিরিজের পাশাপাশি জরিপে রিয়্যালিটি শো, তথ্যচিত্র, টক শো ও ইউটিউব সিরিজও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।
সিরিজের গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ওয়াল্টার হোয়াইটের জীবনের চরম রূপান্তর। রসায়নের শিক্ষক ওয়াল্টার ক্যানসারের আঘাতে দুর্বল থাকার পর ধীরে ধীরে মাদক ব্যবসার জগতে জড়িত হয় এবং কুখ্যাত মেথামফেটামিন তৈরির চক্রে ‘হাইজেনবার্গ’ পরিণত হন। ব্রায়ান ক্র্যানস্টনের অভিনায় এই নীরব ও শান্ত শিক্ষক থেকে ভয়ংকর অপরাধী হয়ে ওঠার পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। অ্যারন পলের জেসি পিংকম্যান চরিত্রটিও গল্পের আবেগ ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।
জরিপের ফলাফলে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘দ্য ওয়্যার’। তৃতীয় থেকে পঞ্চম স্থান পেয়েছে যথাক্রমে ‘ম্যাড মেন’, ‘সাকসেশন’ ও ‘ফ্লিব্যাগ’। শীর্ষ দশের তালিকায় আরও রয়েছে ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘ভিপ’, ‘৩০ রক’, ‘কার্ব ইয়োর এনথুজিয়াজম’ ও ‘আটলান্টা’।
তবে জরিপপদ্ধতি ও তালিকার কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কিছু পেশাজীবী। তাঁদের মতে, সাধারণ দর্শকের নাে শুধু টেলিভিশন শিল্পের পেশাজীবীদের মতামতের ওপর জরিপ নির্ভর করা হয়েছে। অ্যানিমেশন সিরিজের উপস্থিতিও খেয়াল করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৯৯ সালে প্রথম প্রচারিত হওয়ায় ‘দ্য সোপ্রানোস’ ২০০০ সালের পরের সিরিজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়নি। জরিপে অংশ নেওয়া টেলিভিশন পেশাজীবীদের মধ্যে ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর শীর্ষ অবস্থান নিয়ে উল্লেখযোগ্য মতভেদ দেখা যায়নি।





