বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী বাছাই: নাম শোনা যাচ্ছে যথাক্রমে টিপু, কায়সার ও সাক্কু
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তাৎক্ষণিকতা ক্রমশ বাড়ছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসেছেন। নগরীর উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি তিনি দল গোছানোর কাজেও ব্যস্ত থাকছেন। এছাড়া মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পিও মনোনয়নের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু — দুজনেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের হাইকমান্ডের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ও এনসিপির ঘোষণা: মোসলেহ উদ্দিন-মজিবুর ভূঁইয়া ও তারিকুল ইসলাম
প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল জানিয়েছেন, দলে নিজ থেকে প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই — দল যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, তার অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করবেন। তারা সাংগঠনিকভাবে সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একদিকে এনসিপি কেন্দ্রীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নাগরিকদের সেবার জন্য মাঠে নেমে গণসংযোগ করছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে বাসিন্দাদের সাথে কুশল বিনিময় করছেন।
প্রার্থীদের মতামত: দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নাগরিকের খাদেম হতে প্রস্তুত
সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দল ও দলের প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটি তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। তিনি জানান, তিনি এখন নগরবাসীর একজন খাদেম হিসেবে সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকেন এবং নির্বাচনে প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে। নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, তিনি বহিষ্কৃত হলেও দলের বাইরে থাকেন না এবং এক মুহূর্তের জন্যও দলের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকেন নি। সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু জানান, তিনি দলের হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন এবং দলের জন্য নিয়মিত কাজে নিয়োজিত থাকেন — আগামী নির্বাচনে কর্মী-সমর্থকরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তার অনুযায়ী তিনি এগিয়ে যাবেন। এনসিপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, তিনি জোটের সমর্থনও পাওয়ার আশা করেন এবং নগরবাসীর সেবা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পটভূমি: ২০১২ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে আজ পর্যন্ত
কুমিল্লা পৌরসভা থেকে ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি। সেই নির্বাচনে বিএনপির মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আফজাল খান। বর্তমানে নগরীতে নির্বাচনী আমেজ ক্রমশ তৈরি হচ্ছে — মসজিদে নামাজ আদায়, জানাজা, কুলখানি, বিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনে প্রার্থীদের উপস্থিতি বাড়িয়ে যাচ্ছে।

-6ab243b4c8372.jpg)




