শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বিনোদন

মঞ্চায় ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’: স্বাধীনতার প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের দুই শিল্পের সংলাপ

নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নতুন প্রযোজনা ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’তে রবীন্দ্রনাথের দুটি শিল্পকর্মের মাধ্যমে পরাধীনতা ও মুক্তির দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে। সমকালীন প্রযুক্তি, শোষণ ও সাম্রাজ্যবাদের প্রেক্ষিতে মানুষের স্বাধীনতার অর্থ নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে অভিনয়সংস্থার নতুন উদ্যোগটি।

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৫ এএমসর্বশেষ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:২৫ এএম
মঞ্চায় ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’: স্বাধীনতার প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের দুই শিল্পের সংলাপ

প্রাচুর্য, বিলাসিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিনিময়ে পরাধীনতা নয়, অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যেও স্বাধীন জীবন—এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্রে রেখে নাগরিক নাট্যাঙ্গন নাটক ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ মঞ্চায় এসেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে প্রায় দেড় ঘণ্টার নাটকটি দর্শকের বিনোদনের পাশাপাশি মুক্তি ও মানবিকতার প্রশ্ন তুলে ধরে। প্রযোজনাটি নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ২৮তম কাজ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই পাখি’ কবিতা এবং ‘রক্তকরবী’ নাটকের নন্দিনী চরিত্রকে আশ্রয় করে নাটকটি নির্মিত হয়েছে। খাঁচায় বন্দি নিরাপদ পাখির সঙ্গে মুক্ত বনের পাখির সাক্ষাৎকে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার দুই বাস্তবতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দুই পাখি নিজস্ব শক্তিতে মুক্তির পথ খুঁজে পেলে তাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতো। কিন্তু যক্ষপুরীর শোষণ ও ভয়ের শাসনে খনিতে শ্রম করতে বাধ্য মানুষদের মানবিক অস্তিত্ব ও মুক্তির পথ খুঁজতে বাধ্য হয়ে অবস্থান নেয় ‘রক্তকরবী’র নন্দিনী।

ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শোষণ-শাসন ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বাস্তবতায় মানুষের জীবন ক্রমশ যান্ত্রিক হয়ে ওঠা একটি প্রেক্ষিতে নাটকের মূল বক্তব্য সামনে রাখা হয়েছে। নির্দেশক ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম বলেন, প্রকৃত স্বাধীনতা শুধু আবদ্ধ প্রাচীর বা খাঁচা ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অন্যকে খাঁচায় আটকে রাখা থেকে বেরিয়ে নিজের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বাঁচা এবং অন্যকেও বাঁচার সুযোগ তৈরি করাই স্বাধীনতার পূর্ণ রূপ। তাঁর মতে, ‘দুই পাখি’ ও ‘রক্তকরবী’ রবীন্দ্রনাথের একই বক্তব্যের দুই ধরনের শিল্পরূপ—সর্বপ্রাণী ও সব মানুষের স্বাধীনতা।

গত ৪ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর বয়সে পদার্পণ করা লাকী ইনাম দলীয় কর্মীদের জন্মদিন উদযাপনের বদলে নতুন নাটক সৃষ্টি ও মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে নিজের শিল্পজীবনকে উদযাপন করেছেন। শৈশব থেকে আবৃত্তি, গান, নৃত্য ও অভিনয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর শিল্পচর্চার অনুপ্রেরণা হয়ে আসায় জীবনের ৭৫ বছরে এসেও নতুন প্রযোজনার জন্য তিনি রবীন্দ্রনাথের শিল্পকর্মের কাছেই ফিরে গেছেন। নাটকের পাণ্ডুলিপি রচনায় হৃদি হক তাঁকে ভাবনা দিয়ে অনুপ্রাণিত করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রযোজনার অভিনয়, মঞ্চসজ্জা, আবহসংগীত, পোশাক ও দ্রব্যসম্ভারে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের নাট্যকর্মীরা সহযোগিতা করেছেন। মঞ্চের আলোর পুরোধা ঠান্ডু রায়হান আলোকবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এভাবে রবীন্দ্রনাথের কাব্যিক প্রতীক ও নাটকীয় অনুসন্ধানকে সমকালের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিলিয়ে দর্শকের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে স্বাধীনতা, মুক্তি ও মানবিকতার প্রশ্ন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📬 প্রতিদিনের বাছাইকৃত খবর সরাসরি ইমেইলে পান

আমাদের বিনামূল্যে নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ